অনলাইনে ‘লাভ স্ক্যাম’ ও নকল পণ্য বিক্রির মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগে একটি চক্রের ২১ সদস্যকে আটক করেছে মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ-জেআইএম। কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-কেএলআইএ ও নেগেরি সেম্বিলানের নিলাই এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়।
বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটে শুরু হওয়া এ অভিযান এক মাসের গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের পর চালানো হয়। কেএলআইএতে প্রথমে স্থানীয় এক ব্যক্তি এবং চীনের দুই নাগরিককে আটক করা হয়।
অভিবাসন বিভাগের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি বিশেষ করে চীনা নাগরিকদের অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় প্রবেশে সহায়তা করত। এসব ব্যক্তির কয়েকজনকে দেশটির অভিবাসন বিভাগ কালো তালিকাভুক্ত করেছিল। কালো তালিকা এড়াতে তাঁরা ভিন্ন চীনা পাসপোর্ট ব্যবহার করে বিমানবন্দরের ই-গেট পার হতেন।
পরে তাঁদের ব্যাগ থেকে কালো তালিকাভুক্ত পাসপোর্টও উদ্ধার করা হয়। এ সময় চারটি চীনা পাসপোর্ট, চারটি মুঠোফোন ও একটি প্রোটন এক্স৭০ গাড়ি জব্দ করা হয়।
পরে নিলাইয়ের তামান দেশা মেলাতির একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আরও ১৫ জনকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে চক্রটির চারজন কথিত মূলহোতা রয়েছেন তিনজন চীনা নাগরিক ও একজন রুশ নারী।
অভিযানে ২৮টি চীনা পাসপোর্টসহ বিভিন্ন দেশের আরও পাঁচটি পাসপোর্ট, ১১টি কম্পিউটার ও ল্যাপটপ, ৪০টি মুঠোফোন এবং ৪ হাজার ৮০০ রিঙ্গিত নগদ অর্থ জব্দ করা হয়।
অভিবাসন বিভাগ বলছে, নিরিবিলি এলাকায় বিলাসবহুল একটি আবাসিক ভবনকে চক্রটি অনলাইন প্রতারণার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করত। টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা ‘লাভ স্ক্যাম’ এবং আসল পণ্যের নামে নকল পণ্য বিক্রি করে মানুষকে প্রতারণা করত।
চক্রটির সদস্যরা আগে থেকে তৈরি করা কথোপকথনের স্ক্রিপ্ট ব্যবহার করে বিদেশে থাকা ব্যক্তিদের টার্গেট করতেন। প্রতারণার শিকার ব্যক্তির সংখ্যা অনুযায়ী সদস্যদের কমিশন দেওয়া হতো। চলতি বছরের শুরু থেকে চক্রটি সক্রিয় ছিল এবং এভাবে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত আয় করেছে বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় এক সদস্য ও চার কথিত মূলহোতার বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইনের ৫৬(১)(ডি) ধারায় তদন্ত চলছে। অন্য বিদেশিদের বিরুদ্ধেও একই আইনের বিভিন্ন ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আটক সবাইকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থার জন্য পুত্রজায়া অভিবাসন দপ্তরে নেওয়া হয়েছে।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবান বলেন, দেশটির আইন লঙ্ঘনকারী কর্মকাণ্ড বন্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।