মালয়েশিয়ার সরকারি কর্মসূচির দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম। কেবল বাজেট বা সরকারি খরচের খাতা দেখে সাফল্য পরিমাপ না করে, সাধারণ মানুষ তার থেকে বাস্তবে কতটা সুফল পাচ্ছেন—তার ভিত্তিতেই কাজের মূল্যায়ন করার জোর তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
আজ ‘প্ল্যান্টেশন অ্যান্ড কমোডিটিজ’ মন্ত্রণালয়ের মাসিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, দেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সূচক আশাব্যঞ্জক হলেও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের আত্মতুষ্টিতে ভোগার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, “আমাদের সন্তুষ্ট হয়ে বসে থাকলে চলবে না। আমাদের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল ও ব্যাপক করতে হবে।”
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, সরকারের উচ্চপর্যায়ের উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্যে এখনও একধরনের বিচ্ছিন্নতা রয়ে গেছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি ‘ফেলডা’ আবাসন প্রকল্পগুলোর অবহেলার চিত্র তুলে ধরে বলেন, বহু ঘরবাড়ি ও প্রকল্প বছরের পর বছর প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাবে পড়ে রয়েছে। এমনকি শৌচাগারের মতো মৌলিক সুযোগ-সুবিধার দিকেও প্রশাসনিক নজর দেওয়া জরুরি।
অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে সৌন্দর্যের চেয়ে কার্যকারিতাকে প্রাধান্য দেওয়ার নির্দেশ দেন আনোয়ার ইব্রাহিম। বিশেষ করে গ্রামীণ ও কৃষি সড়ক নির্মাণের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাস্তা খুব বেশি আধুনিক বা চোখধাঁধানো হওয়ার প্রয়োজন নেই; কৃষিপণ্য সহজে পরিবহনের উপযোগী হলেই তা যথেষ্ট। বাজেট ২০২৭-এর আওতায় কৃষি-পণ্য খাতের জন্য মোট ৪২৫ দশমিক ৬৫ মিলিয়ন রিঙ্গিত বরাদ্দের বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
এসময় প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন যে, কার্যকর বাস্তবায়ন ছাড়া বাজেট বরাদ্দ বাড়ানো অর্থহীন। অর্থনীতির সামষ্টিক সূচক যতই ইতিবাচক হোক না কেন, দ্রুত ও দক্ষ বাস্তবায়ন ছাড়া তৃণমূলের মানুষ তার সুফল পাবে না। তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, ভালো পারফরম্যান্স সত্ত্বেও প্রশাসনকে কোনোভাবেই অলস বা অলসতার মানসিকতায় ডুবে যেতে দেওয়া যাবে না।