শিরোনাম :
দুর্নীতির তদন্ত প্রতিহিংসা বা ঈর্ষা থেকে নয়: আনোয়ার ইব্রাহিম সাহিত্য-সংস্কৃতিতে ব্রুনাই-মালয়েশিয়ার সম্পর্ক জোরদারে সংলাপ ভুয়া পুলিশ সেজে ফোন স্ক্যাম, ইপোর এক বৃদ্ধ খোয়ালেন ১৯ লাখ রিঙ্গিত কৃষকদের সুবিধার্থে ব্যর্থ চুক্তি বাতিলের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যার প্রতিবাদে কুয়ালালামপুরে মালয়েশীয়দের বিক্ষোভ মাহা ২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম থাইল্যান্ডের উপপ্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফর, গুরুত্ব পাবে সীমান্ত নিরাপত্তা ও যোগাযোগ কাম্পার ও কুয়ালা কাংসারে পৃথক ক্যাবল চুরির মামলায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ এয়ার ইটাম সশস্ত্র সংঘর্ষ: পেনাং এবং সেলাঙ্গরে অভিযানের পর গ্রেপ্তার আরও ১০ ACC to seek UAE data on Dubai assets of 73 Bangladeshis

মেয়েকে বাঁচাতে দেশে ফিরে রিক্সা চালান প্রবাসী মা

পিবিএন টিভি ২৪ রিপোর্ট:
  • সর্বশেষ আপডেট: সোমবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

সিনেমার গল্পকেও হার মানায় যে গল্প, রিক্সা চালিয়ে মেয়েকে বাঁচানোর চেষ্টায় মরিয়া মা। এই পৃথীবিতে মায়ের চেয়ে আপন কেউ হয়না। কথাটি যে চিরন্তর সত্য তার প্রমাণ মিলেছে কোটি কোটি বার। ঠিক যেন আবার তার প্রমাণ পেলে বাংলাদেশের মানুষ।

এই যেমন রাজধানীর আদাবার থানার তুরাগ হাউজিং এলাকার বাসিন্দা সাজেদা বেগম। পেশায় একজন অটোরিকশা চালক। তাঁর একমাত্র মেয়ে মুক্তা আক্তারের দুটি কিডনিই বিকল। এক সময় প্রবাসী গার্মেন্টস কর্মী হিসেবে কাজ করলেও এখন মেয়ের চিকিৎসায় দেশে ফিরে বেছে নিয়েছেন অটোরিকশা চালকের কাজ। মোহাম্মাদপুর এলাকায় অটোরিকশা চালিয়ে মেয়ের চিকিৎসা চালাচ্ছেন তিনি।

জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে প্রবাসী গার্মেন্টস কর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন সাজেদা বেগম ও তাঁর মেয়ে মুক্তা আক্তার। তাঁদের দুজনের আয়ে ভালোই যাচ্ছিল সবকিছু। একমাত্র মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন সাজেদা বেগম। এক সময় ভূমিহীন সাজেদা আয়ের টাকায় জমিও কেনেন। মেয়ের বিয়ের জন্য কেনেন স্বর্ণালংকার। কিন্তু মেয়ে মুক্তা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় জীবনের গল্পই পাল্টে যায় সাজেদা বেগমের। প্রবাসী কর্মী থেকে মেয়ের চিকিৎসা করাতে ফিরে আসেন দেশে। এখন তিনি অটোরিকশা চালকের কাজ করছেন।

নিজের জীবনের সংগ্রামের গল্প বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সাজেদা। বলেন, ‘আমার নিজের কোনো ঠিকানা নেই। ভূমিহীন হিসেবে সরকারি আবাসনে থাকতাম। কিন্তু এই পরিচয়ে মেয়েকে ভালো পরিবারে বিয়ে দিতে পারব না। তাই মা-মেয়ে প্রবাসী গার্মেন্টস কর্মী হিসেবে কাজ করে বাড়ির জমি কিনেছি। মেয়ের বিয়ের জন্য কানের দুল, গলার চেইন, হাতের চুরিসহ স্বর্ণালংকার কিনেছিলাম। এবার একটা ঘর করে মেয়েকে দেব এমন আশায় ছিলাম। কিন্তু ২০২২ সালের ১২ ডিসেম্বর আমার সেই স্বপ্ন ভেঙে যায়। মেয়েটা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বলে আমার মেয়ের দুটি কিডনিই নষ্ট। এরপর ১৬ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয় আমার মেয়ের ডায়ালাইসিস। প্রতি সপ্তাহে ডাক্তার ৩ বার ডায়ালাইসিস করতে বলেছে। কিন্তু আমি দুবার করে করাচ্ছি।’

সাজেদা বেগম বলেন, ‘মেয়ের চিকিৎসার খরচ জোগাতে প্রথমে জমানো টাকা এরপর বিয়ের জন্য কেনা স্বর্ণালংকার বিক্রি করেছি। যেখানে যা ছিল সব খরচ করা শেষ। তাই এখন অটোরিকশা চালানো শুরু করেছি।’

নিজের একটি কিডনি মেয়েকে দিতে চান জানিয়ে সাজেদা বলেন, ‘মেয়ের সঙ্গে আমার রক্তের গ্রুপ মিল আছে। আমি নিজেই একটি কিডনি দিতে চাই। কিন্তু টাকার অভাবে সেটাও পারছি না। ডাক্তার বলেছে, কিডনি দিতে হলে কয়েক লাখ টাকা খরচ হবে।’

এর আগেও জীবনে বেশ কয়েকবার কঠিন সংগ্রামের মুখোমুখি হয়েছিলেন সাজেদা বেগম। কিন্তু কখনোই হার মানেননি। শৈশবেই মা-বাবাকে হারান। স্বজনদের কাছে বড় হন। মাত্র ১৪ বছর বয়সে বিয়ে হলেও স্বামী একটা সময় সংসার ছেড়ে চলে যান। তিন সন্তানের মধ্যে ৪ মাসের এক ছেলে ও আড়াই বছরের এক মেয়ে ২০০৭ সালে সিডরের সময় মারা যায়। এখন সাজেদার বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন মেয়ে মুক্তা আক্তার। মেয়েকে বাঁচাতে বিত্তবান ও প্রবাসীদের প্রতি আকুতি জানিয়েছেন সাজেদা।

আরো পড়ুন

© All rights reserved © pbntv24
Developer Vom Tech
Translate »