শিরোনাম :
সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মালয়েশিয়ার রাজার সাক্ষাৎ মালয়েশিয়ার হাইকমিশনারের সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের সাক্ষাৎ ভারতে ৩.৪৫ কেজি হাইড্রোফোনিক ক্যানাবিসসহ মালয়েশীয় নাগরিক গ্রেপ্তার মালয়েশিয়ায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, ৩১ ইন্দোনেশীয় আটক President stresses more balanced, mutually beneficial US trade deal Tarique outlines 5-point plan to tackle Bangladesh’s energy crisis তাবুং হাজি তদন্তে সাবেক মন্ত্রী ৫ দিনের রিমান্ডে মিয়ানমার শরণার্থীদের ফেরত পাঠানো নিরাপদ নয়, মালয়েশিয়াকে সতর্ক করল জাতিসংঘ ২০ বছর পর আসিয়ান স্বাস্থ্য মন্ত্রীদের বৈঠকের আয়োজক মালয়েশিয়া দক্ষিণ থাইল্যান্ডে ভ্রমণে মালয়েশিয়ানদের রেকর্ড ভিড়, খরচ ৩৬ মিলিয়ন রিঙ্গিত

জরিমানা-মামলার বাইরে গিয়ে সড়ক নিরাপত্তায় নতুন পরিকল্পনা ডিএমপির

পিবিএন টিভি ২৪ রিপোর্ট:
  • সর্বশেষ আপডেট: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬

ঢাকার সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে শুধু মামলা ও জরিমানার ওপর নির্ভর না করে চালক ও পরিবহন শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ, জিপিএসের মাধ্যমে যানবাহন পর্যবেক্ষণ, পুরোনো গাড়ি স্ক্র্যাপ এবং সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়নসহ সমন্বিত উদ্যোগ নিতে চায় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান এসব পরিকল্পনার কথা জানান।

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ ইতোমধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে পরিবহন শ্রমিকদের জন্য স্বাস্থ্য ক্যাম্প পরিচালনা করছে। এসব ক্যাম্পে চালক ও শ্রমিকদের বিনামূল্যে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আনিছুর রহমান বলেন, একজন বাসচালক একই সময়ে ৪০ থেকে ৫০ জন যাত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকেন। ফলে চালকের শারীরিক সক্ষমতা সরাসরি সড়ক নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু অর্থের অভাব ও সময় সংকটের কারণে অনেক চালক নিয়মিত চিকিৎসা করাতে পারেন না। তাদের কথা বিবেচনা করেই কর্মস্থলের কাছাকাছি স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, দীর্ঘ সময় সড়কে দায়িত্ব পালনকারী মানুষদের মধ্যে নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা যায়। সম্প্রতি নিজের শ্রবণশক্তি পরীক্ষা করানোর পর উল্লেখযোগ্য মাত্রায় শ্রবণক্ষমতা কমে যাওয়ার বিষয়টি জানতে পেরেছেন তিনি। তার মতে, অতিরিক্ত শব্দের প্রভাবে ট্রাফিক পুলিশ, চালকসহ সড়কে দীর্ঘ সময় কাজ করা মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। শিশুদের ওপরও শব্দদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, ১০০ জন চালকের শ্রবণশক্তি পরীক্ষা করা হলে তাদের একটি বড় অংশের সমস্যা শনাক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ট্রাফিক বিভাগ গবেষণাও করছে। দীর্ঘ সময় ধুলা, ধোঁয়া ও উচ্চ শব্দের মধ্যে দায়িত্ব পালন করায় ট্রাফিক পুলিশের মধ্যে ফুসফুসের সমস্যা, কোমরব্যথা, শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া এবং চোখের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। ফুটপাতের হকারসহ দীর্ঘ সময় সড়কে থাকা অন্য পেশার মানুষও একই ধরনের ঝুঁকিতে রয়েছেন।

সড়ক দুর্ঘটনা ও যানজটের স্থায়ী সমাধানে সমন্বিত পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আনিছুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনার জন্য শুধু চালককে দায়ী করলে সমস্যার পূর্ণ চিত্র পাওয়া যাবে না। চালকের প্রশিক্ষণ ও কর্মপরিবেশের পাশাপাশি সড়কের নকশা, অবকাঠামো, যানবাহনের ফিটনেস এবং সাধারণ মানুষের সড়ক ব্যবহারের আচরণও বিবেচনায় নিতে হবে।

বেপরোয়া গতি, উল্টো পথে গাড়ি চালানো ও ট্রাফিক সংকেত অমান্যের মতো অপরাধ ঠেকাতে জিপিএস প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ ব্যবস্থা চালু হলে কোনো যানবাহন কখন কোথায় চলেছে এবং নির্ধারিত পথের বাইরে বা উল্টো পথে গেছে কি না, তা শনাক্ত করা সহজ হবে। ফলে আইন প্রয়োগ আরও কার্যকর হবে।

সড়ক অবকাঠামোর কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার ভাষ্য, আন্তর্জাতিক মানের মহাসড়কে পাশের ফিডার সড়ক থেকে সরাসরি মূল সড়কে ওঠার সুযোগ সাধারণত থাকে না। কিন্তু বাংলাদেশে অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় সড়ক সরাসরি মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।

ট্রাফিক আইন প্রয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইনের আওতায় নিয়মিত অভিযান ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ২০২৫ সালের বিধিমালায় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে ক্ষমতা দেওয়ার পর কালো ধোঁয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত শব্দের বিরুদ্ধেও অভিযান চালানো হচ্ছে।

ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও শুধু জরিমানা করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন আনিছুর রহমান। তার মতে, আইনের মূল বিধান কার্যকর করতে হবে। আইন অনুযায়ী ২০ বছরের বেশি পুরোনো বাস এবং ২৫ বছরের বেশি পুরোনো ট্রাক সড়কে চলাচল করতে পারে না। এ ধরনের যানবাহন সরিয়ে নিতে স্ক্র্যাপ নীতিমালা করা হয়েছে এবং তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষকে (বিআরটিএ)।

পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন পর্যায়ক্রমে স্ক্র্যাপ করা গেলে সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে বলে মনে করেন তিনি। তবে সড়ক নিরাপত্তার মতো জটিল সমস্যার সমাধান রাতারাতি সম্ভব নয় উল্লেখ করে আনিছুর রহমান বলেন, চালক, যানবাহন, সড়ক, অবকাঠামো ও আইন প্রয়োগ, সবকিছুকে একই পরিকল্পনার আওতায় এনে দীর্ঘমেয়াদে কাজ করতে হবে।

আরো পড়ুন

© All rights reserved © pbntv24
Developer Vom Tech
Translate »