বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবার চালুর উদ্যোগ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। শুরুতেই সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলের মাধ্যমে সম্পূর্ণ বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মী মালয়েশিয়ায় পাঠানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা শ্রমবাজার এবার আরও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ার সরকার সরাসরি ২৫টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সিকে কর্মী পাঠানোর অনুমতি দিয়েছে। এর পাশাপাশি আরও ৩১২টি এজেন্সি সহযোগী বা অ্যাসোসিয়েট রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি হিসেবে কাজ করার সুযোগ পাবে। সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলও এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকবে। সব মিলিয়ে ৩৩৮টি প্রতিষ্ঠান মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর সুযোগ পাচ্ছে।
সরকারের বিশেষ অনুরোধে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে জিরো কস্টে নেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে। বিমানভাড়াসহ অভিবাসনের কোনো খরচ ছাড়াই বোয়েসেলের মাধ্যমে বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে প্রথম দলটি পাঠানোর মধ্য দিয়ে শ্রমবাজার পুনরায় চালু হওয়ার কথা রয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে একাধিক পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরেও দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও রাজার সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।
২০২২ সালের সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর জন্য রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচনের দায়িত্ব মূলত মালয়েশিয়া সরকারের হাতে রয়েছে। বর্তমান সমঝোতার মেয়াদ আগামী ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে। এরপর নতুন সমঝোতার মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বার্থ আরও বেশি নিশ্চিত হবে বলে আশা করছে সরকার।
রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর পাশাপাশি মেডিকেল সেন্টার নিয়েও নতুন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানগুলো বাদ দিয়ে আপাতত ১৬টি মেডিকেল সেন্টারের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হবে। পরে মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নতুন নীতিমালার আলোকে পূর্ণাঙ্গ তালিকা চূড়ান্ত করবে।
বিদেশগামী কর্মীদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধ, মালয়েশিয়ায় সরাসরি নিয়োগকর্তা প্রতিষ্ঠানে কাজে যোগদান এবং দেশটির শ্রম আইন অনুযায়ী বেতন, আবাসন ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অভিবাসনসংক্রান্ত অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তিতে ২৪ ঘণ্টার মনিটরিং সেল ও হেল্পডেস্কও চালু করা হবে।
তবে শ্রমবাজার চালুর খবরকে কেন্দ্র করে দালাল ও প্রতারক চক্রের তৎপরতা বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে মন্ত্রণালয়। কর্মী পাঠানোর সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তাই সরকারি বিজ্ঞপ্তি না আসা পর্যন্ত কাউকে টাকা না দেওয়া, মেডিকেল পরীক্ষা না করা এবং পাসপোর্ট জমা না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।