ইন্টারন্যাশনাল কমিটি টু ব্রেক দ্য সিজ অন গাজা (ICBSG) জানায়, ইসরায়েলি বাহিনী এখন পর্যন্ত ২২টি জাহাজ দখল করেছে। আরও ১৯টি জাহাজে হামলার আশঙ্কা করা হলেও তা এখনও নথিভুক্ত হয়নি। অবশিষ্ট চারটি জাহাজের মধ্যে দুটি পেছনে ফিরে গেছে, আরেকটি সহায়ক জাহাজ (Marinet) এখনও গাজার পথে রয়েছে, যদিও প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে দেরিতে রওনা দেওয়ায় সেটি অনেক পিছিয়ে আছে।
গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা (GSF) এক বিবৃতিতে জানায়, আটককৃত কর্মীদের ইসরায়েলি নৌবাহিনী জোরপূর্বক জাহাজ থেকে নামিয়ে নিয়ে গেছে, যা তারা “অবৈধ অপহরণ” হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
আটক হওয়া কর্মীদের মধ্যে স্পেন, ইতালি, ব্রাজিল, তুরস্ক, গ্রিস, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, সুইডেন, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ অন্তত ৪৭টি দেশের নাগরিক রয়েছেন। ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আটককৃত সবাইকে দক্ষিণ ইসরায়েলের আশদোদ বন্দরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং পরবর্তীতে তাদের ইউরোপে বহিষ্কার করা হবে। মন্ত্রণালয় আরও জানায়, এখনো একটি জাহাজ দূর থেকে আসছে এবং সেটিকেও গাজার কাছাকাছি পৌঁছাতে দেওয়া হবে না। আয়োজকরা অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েলি নৌবাহিনী জাহাজে ধাক্কা দিয়েছে, জলকামান ব্যবহার করেছে এবং জোর করে জাহাজে উঠে কর্মীদের আটক করেছে। আটক হওয়ার পর শান্তিপূর্ণ কর্মীদের প্রতি অমানবিক আচরণেরও অভিযোগ তুলেছে তারা। কর্মীরা জানান, নৌবাহিনী হামলার আগে তাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল করে দেয় এবং সিগন্যাল বন্ধ করে দেয়। গাজা থেকে মাত্র ৮০ নটিক্যাল মাইল দূরে থাকতেই অন্তত ২০টির বেশি ইসরায়েলি নৌকা বহরকে ঘিরে ধরে। সরাসরি সম্প্রচারের ভিডিওতে দেখা যায়, কর্মীরা লাইফ জ্যাকেট পরে প্রস্তুতি নিচ্ছে, আর এ সময় ইসরায়েলি নৌকা তাদের জাহাজের কাছাকাছি চলে আসে।
এ হামলা চালানো হয় এমন সময়, যখন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো সতর্ক করেছিল। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ফ্লোটিলাকে সুরক্ষা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল, আর জাতিসংঘ স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছিল যে এই বহরে হামলা অগ্রহণযোগ্য হবে। এই ফ্লোটিলা মূলত খাদ্য ও চিকিৎসা সামগ্রী বহন করছিল। আগস্টের শেষ দিকে প্রায় ৫০টি জাহাজ একসাথে গাজার উদ্দেশে রওনা হয়— যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রচেষ্টা বলে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রায় ১৮ বছর ধরে ইসরায়েল গাজায় অবরোধ চালিয়ে আসছে। চলতি বছরের মার্চে সীমান্ত পারাপার বন্ধ করে খাদ্য ও ওষুধ প্রবেশ আটকে দেওয়ার ফলে এ অবরোধ আরও কঠোর হয়, যা গাজাকে দুর্ভিক্ষের দিকে ঠেলে দিয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় ৬৬ হাজার ২০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো সতর্ক করেছে যে গাজা দ্রুত বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে এবং সেখানে অনাহার ও মহামারী ছড়িয়ে পড়ছে।