কুয়ালালামপুর, ২ জুন — লেবানন ও গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকলে এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন বজায় থাকলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে চলাচল ব্যাহত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
আইআরজিসির কুদস ফোর্সের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসমাইল কা’আনি মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এ সতর্কবার্তা দেন। তিনি লেবানন ও গাজায় চলমান হামলাকে ‘জায়নবাদী অপরাধ’ আখ্যা দিয়ে বলেন, পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে প্রতিরোধ জোট বা ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’ তাদের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে পারে।
কা’আনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশ্য সমর্থনে সংঘটিত এসব কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ অক্ষকে উভয় যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের সমর্থন ও উপস্থিতি আরও জোরদার করতে বাধ্য করবে।”
তিনি জানান, সম্ভাব্য পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে নতুন নতুন ফ্রন্ট সক্রিয় করা এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করা, যা বর্তমানে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে বিদ্যমান উত্তেজনার সঙ্গে তুলনীয় হবে।
আইআরজিসি কমান্ডার আরও সতর্ক করে বলেন, ইসরায়েল যদি তার সামরিক অভিযান চালিয়ে যায়, তাহলে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং লেবাননের হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে নতুন করে প্রতিরোধের ঢেউ দেখা দিতে পারে।
এদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরান মনে করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো চূড়ান্ত সমঝোতার শর্ত হিসেবে আঞ্চলিক সংঘাতপূর্ণ এলাকাগুলোতে সামরিক অভিযান পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ করাও ইরানের অন্যতম প্রধান দাবি, যা চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনা নিয়ে আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।
লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযুক্তকারী বাব আল-মান্দেব প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথগুলোর একটি। বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রায় ১০ শতাংশ এই নৌপথ দিয়ে পরিচালিত হয়, ফলে এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এর আগে ইয়েমেনভিত্তিক ইরান-সমর্থিত আনসারুল্লাহ আন্দোলন (হুথি) ফিলিস্তিন ও ইরানের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট জাহাজ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনার ওপর একাধিক হামলা চালিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে তা বৈশ্বিক বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।