কুয়ালালামপুর, ২৬ ডিসেম্বর: মাত্র তিন মাসে কুয়ালালামপুরে তিন লক্ষ তেরো হাজারের বেশি ট্রাফিক সমন জারি হওয়ায় রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলার অবনতিকে ‘উদ্বেগজনক’ বলে উল্লেখ করেছে পুলিশ।
কুয়ালালামপুর পুলিশের প্রধান কমিশনার দাতুক ফাদিল মারসুস জানান, ১ অক্টোবর থেকে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত আইন মান্যতা অভিযান (অপস পাতুহ উন্দাং-উন্দাং – অপস পিইউইউ) চলাকালে মোট ৩,১৩,৫২৯টি সমন জারি করা হয়।
এর মধ্যে রয়্যাল মালয়েশিয়া পুলিশ (পিডিআরএম) জারি করেছে ৩,১১,১১৬টি, সড়ক পরিবহন বিভাগ (জেপিজে) ১,৬৫৯টি, কুয়ালালামপুর সিটি হল (ডিবিকেএল) ৬৫৮টি এবং পরিবেশ অধিদপ্তর (ডিওই) ৯৬টি সমন।
সংখ্যাটিকে হতাশাজনক আখ্যা দিয়ে কমিশনার ফাদিল বলেন, মাত্র তিন মাসে এত বিপুল সংখ্যক সমন জারি হওয়া রাজধানীর সড়কে ট্রাফিক আইন মানার ক্ষেত্রে গুরুতর ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়।
শুক্রবার কুয়ালালামপুর পুলিশ মিডিয়া অ্যাপ্রিসিয়েশন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি বলেন,
“এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে কুয়ালালামপুরে সড়ক ব্যবহারকারীদের ট্রাফিক শৃঙ্খলার মান এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে।”
পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি নথিভুক্ত অপরাধ ছিল ট্রাফিক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, যেখানে ২,০০,০৭৯টি সমন জারি করা হয়। এরপর রয়েছে ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য, ৭৯,৭৯৫টি মামলা, এবং বৈধ বা মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানো, ৮,২৮১টি ঘটনা।
এছাড়া লাল বাতি অমান্য, অবৈধ পার্কিং ও সড়ক চিহ্ন অমান্যের মতো অপরাধও রেকর্ড করা হয়েছে, যা যানজট বাড়ানোর পাশাপাশি জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।
যানবাহনের ধরন অনুযায়ী, ব্যক্তিগত গাড়ির বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি সমন জারি করা হয়েছে, ২,৪৬,৫১৯টি। এরপর রয়েছে মোটরসাইকেল, ৫৬,৩২৭টি। অন্যান্যদের মধ্যে চার চাকার যান (৩,৭৯০টি), ট্যাক্সি (২,৬৬১টি), লরি (২,৩২৯টি), বাস (৫৫৭টি) এবং নির্ধারিত পারাপথ ব্যবহার না করা পথচারী, ১,৩৪৬টি সমনের আওতায় এসেছে।
কমিশনার ফাদিল বলেন, সড়ক ব্যবহারকারীদের স্বার্থপর আচরণ ও শৃঙ্খলার অভাবই মূলত এসব ট্রাফিক লঙ্ঘনের কারণ, যা কুয়ালালামপুরে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
তিনি বলেন,
“আমরা এখানেই থামছি না। কুয়ালালামপুরে যানজট এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। এই অভিযান শুধু আইন প্রয়োগের জন্য নয়, বরং মানুষকে আরও দায়িত্বশীল ও শৃঙ্খলাবদ্ধ করে তোলার জন্যও।”
তিনি আরও জানান, ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না এবং অপস পিইউইউ ভবিষ্যতেও ধাপে ধাপে চালু থাকবে।
এর আগে, অভিযান শুরুর পূর্বে কুয়ালালামপুর পুলিশ তিন সপ্তাহব্যাপী সচেতনতা ও প্রচারণা কর্মসূচি পরিচালনা করে, যেখানে সড়ক আইন মেনে চলা ও নিরাপদ চলাচলের গুরুত্ব সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে অবহিত করা হয়।