লন্ডন, ২৭ সেপ্টেম্বর : পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সতর্ক করেছেন যে, গাজার শিশুদের রক্ষায় বিশ্ব ব্যর্থ হলে তা মানবতার জন্য এক কলঙ্ক হয়ে থাকবে। তিনি চলমান সহিংসতা বন্ধে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন।
শুক্রবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিতে গিয়ে শরিফ অভিযোগ করেন, ইসরায়েল ফিলিস্তিনি বেসামরিক জনগণের বিরুদ্ধে এক “গণহত্যামূলক অভিযান” চালাচ্ছে এবং বর্তমান মানবিক সংকট আধুনিক সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ ট্র্যাজেডির একটি।
তিনি বলেন, “সবচেয়ে ছোট কফিনই সবচেয়ে ভারী। আমরা গাজার শিশুদের ব্যর্থ করতে পারি না, এবং করা উচিতও নয়। এখনই যুদ্ধবিরতির পথ খুঁজে বের করতে হবে।”
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন যে, তার দেশ দীর্ঘদিন ধরে পূর্ব জেরুজালেম (আল-কুদস আশ-শরিফ) রাজধানী করে ১৯৬৭ সালের সীমারেখার ভিত্তিতে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
তিনি পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি অবৈধ বসতি স্থাপন কার্যক্রমেরও তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “প্রতিদিন নতুন বর্বরতা ঘটছে — অবৈধ বসতির লোকেরা দণ্ডমুক্তভাবে হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে, অথচ কেউ তাদের জবাবদিহি করে না।”
শরিফ জোর দিয়ে বলেন, সাধারণ মানুষ বিশেষত নারী ও শিশুর দুর্ভোগকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সর্বাগ্রে রাখতে হবে।
“গাজায় ইসরায়েলের হামলা নারী ও শিশুদের ওপর অকল্পনীয় সন্ত্রাস নেমে এনেছে, যা তাদের কু-লক্ষ্য অর্জনের অন্ধ প্রচেষ্টার অংশ,” তিনি বলেন। “ইতিহাস একে তার সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়গুলোর একটি হিসেবে মনে রাখবে।”
এ সময় তিনি কাতারের দোহায় হামাস প্রতিনিধিদের ওপর কথিত ইসরায়েলি হামলারও নিন্দা জানান এবং একে আন্তর্জাতিক সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন ও ইসরায়েলের “সন্ত্রাসী আচরণের” প্রমাণ বলে আখ্যায়িত করেন।
শরিফ পুনরায় ফিলিস্তিন ও কাতারের প্রতি পাকিস্তানের সংহতি ব্যক্ত করেন এবং স্মরণ করিয়ে দেন যে, পাকিস্তান ১৯৮৮ সালেই প্রথম ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছিল।
তিনি বলেন, “আমরা ফিলিস্তিনকে সম্প্রতি একাধিক দেশের স্বীকৃতিকে স্বাগত জানাই এবং অন্যদেরও একই পথে হাঁটার আহ্বান জানাই। সময় ও সুযোগ কারও জন্য অপেক্ষা করে না।”
নিজের ভাষণ শেষে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হলে তা বিশ্ব বিবেকের ওপর স্থায়ী কলঙ্ক হয়ে থাকবে।