ইতালির নাগরিক সিজার তাবেলা হত্যা মামলায় অভিযুক্ত আসামি বিএনপি নেতা এম এ কাইয়ুমকে শুক্রবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে মালয়েশিয়ায় আটক করা হয়। সে ২০১৫ সাল থেকে মালয়েশিয়ায় আশ্রয় বসবাস করছেন, আজ সকালে মালয়েশিয়ার হাইকোর্ট তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর আদেশ স্থগিত করেছে। একই সাথে স্থগিত আদেশ অভিবাসন বিভাগকে নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে ।
আইনজীবী কি শু মিন বলেছেন, বিজ্ঞআদালত কাইয়ুমের মামলার আবেদনের শুনানির বিচারক ৫ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন, অন্যথায় তার আটকের আবেদন অবৈধ হিসাবে বিবেচিত হবে। বিচারের আগে, হাইকোর্ট আজ সরকারকে তার সম্পূরক হলফনামা ২ ফেব্রুয়ারি এবং কাইয়ুমকে ১ মার্চ পাল্টা জবাব দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছে।
আইনজীবী কি শু মিন বলেন, ২২ শে মার্চ উভয় পক্ষ একসাথে তাদের লিখিত বক্তব্য জমা দেওয়ার আগে সরকারকে ১৫ মার্চ নিশ্চিতকরণ ফাইল করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে, সুয়ারামের নির্বাহী পরিচালক সেভান ডোরাইসামি আজ এক বিবৃতিতে বলেছেন ১২ জানুয়ারি মালয়েশিয়ার পুলিশ এবং বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই) দ্বারা পরিচালিত যৌথ অভিযানে কাইয়ুমকে আমপাং-এর বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করেছিল।
সেভান বলেন ,কাইয়ুমকে আটক পর আমপাং জায়া জেলা পুলিশ সদর দফতরে রাখা হয় পরে পুত্রজায়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের সদর দফতরে পাঠানো হয়েছে।
কাইয়ুমের স্বজনেরা বলছেন, ২০১৫ সাল থেকে মালয়েশিয়ায় তিনি ‘সেকেন্ড হোম’ হিসেবে অবস্থান করছেন। এর পাশাপাশি তিনি জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের তালিকাভুক্ত শরণার্থী হিসেবে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন।
জানতে চাইলে কুয়ালালামপুর থেকে এম এ কাইয়ুমের স্ত্রী শামীম আরা বেগম বলেন, জুমার নামাজ শেষে বাসায় ফিরে গাড়ি পার্ক করছিলেন কাইয়ুম। এ সময় পুলিশের একটি দল এসে তাঁকে থানায় যেতে বলে। পুলিশ তাঁকে বলেছে, অভিবাসন আইনের আওতায় অবৈধভাবে অবস্থানের কারণে তাঁকে আটক করা হচ্ছে। কারণ, তাঁর পাসপোর্ট বাতিল হয়েছে। পরে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এ সময় পুলিশকে এটাও জানানো হয় যে তিনি ইউএনএইচসিআরের শরণার্থী কার্ড নিয়ে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন।
গতকাল, কাইয়ুম এর পক্ষের আইনজীবী সেভান দাবি করেছেন তার এই গ্রেপ্তার রাজনৈতিক প্রতিহিংষা। কাইয়ুম ২০১৫ সাল থেকে সেকেন্ড হোম প্রোগ্রামের অধীনে বসবাস রয়েছেন এবং জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) দ্বারা তালিকাভুক্ত একজন শরণার্থী।