কুয়ালালামপুর: মালয়েশিয়া খুব শিগগিরই বিমান নিরাপত্তা ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে উন্নত যাত্রী স্ক্রিনিং সিস্টেম এপিএসস (APSS) বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসিউশন ইসমাইল।

মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (KLIA) মালয়েশিয়ান বর্ডার কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রোটেকশন এজেন্সি (AKPS) আয়োজিত “বেন্টেং পারসাদা” উদ্যোগের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, ৯/১১ হামলার পর বৈশ্বিকভাবে চালু হওয়া এ সিস্টেমে যাত্রীদের নাম, পাসপোর্ট নম্বর, আসন নম্বর, এমনকি খাবারের পছন্দ সম্পর্কিত তথ্যও যাত্রার আগে বিমান সংস্থাগুলোকে সরবরাহ করতে হবে। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (ICAO) এ ব্যবস্থা তদারকি করছে এবং সব দেশ ও এয়ারলাইনের জন্য এটি বাধ্যতামূলক।
“এই প্রযুক্তি প্রাক-যাত্রা নিরাপত্তা যাচাই নিশ্চিত করবে, সম্ভাব্য ঝুঁকি কমাবে এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা আরও কার্যকর করবে,” বলেন সাইফুদ্দিন।
তিনি জানান, চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত ১৭ হাজার ৬৫৮ বিদেশিকে “নট-টু-ল্যান্ড” (NTL) নোটিশ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ১৩ হাজার ৭৯০টি মামলা শুধু KLIA-তেই রেকর্ড করা হয়েছে।

মন্ত্রী আরও জানান, ভেন্ডর নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে এবং সিস্টেম উন্নয়ন চলছে। আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হবে, যেখানে মালয়েশিয়ায় পরিচালিত ৫৬টি এয়ারলাইনের মধ্যে প্রথম ধাপে ১০টি অংশ নেবে।
একই সময়ে প্রবেশ পয়েন্টগুলোতে প্রায় ১৯ লাখ রিঙ্গিত মূল্যের চোরাই ও নিষিদ্ধ পণ্য জব্দ করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এছাড়া, সাইফুদ্দিন জানান, বর্তমানে AKPS-এর জনবল ৫,১৮০ জন এবং তাদের জন্য নতুন বিশেষ সেবা কাঠামো গড়ে তুলতে জনসেবা বিভাগ (JPA)-এর সঙ্গে আলোচনা চলছে।
সীমান্তপথে যোগাযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জোহর বারু-সিঙ্গাপুর দ্রুতগামী পরিবহন ব্যবস্থা (RTS) লিংক প্রকল্পের কাজও অগ্রসর হচ্ছে। ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে চালু হওয়ার কথা এই প্রকল্পে উভয় প্রান্তে যৌথ কাস্টমস, ইমিগ্রেশন ও কোয়ারেন্টাইন (CIQ) কমপ্লেক্স থাকবে।

“এই RTS লিংকে AKPS প্রধান ফ্রন্টলাইনার সংস্থা হিসেবে কাজ করবে। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আমরা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (SOP) তৈরি, কর্মীদের কল্যাণ নিশ্চিতকরণ এবং অটো গেট ও স্ক্যানারসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ করছি,” তিনি জানান।
মন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগ কার্যকর করতে আগামী ফেব্রুয়ারি সংসদ অধিবেশনে নতুন একটি আইন উপস্থাপন করা হবে।
“যদি নতুন আইন তৈরি না করি, তবে আন্তঃসম্পর্কিত ৩৭টি বিদ্যমান আইন সংশোধন করতে হবে। তাই একটি সমন্বিত আইন প্রণয়নই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান,” তিনি বলেন।
সাইফুদ্দিন আরও জানান, চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশজুড়ে ২১টি প্রবেশপথের দায়িত্ব নিয়েছে AKPS। আগামী জানুয়ারির মধ্যে মালয়েশিয়ার সবগুলো ১২৩টি আনুষ্ঠানিক প্রবেশপথ ধাপে ধাপে এ সংস্থার নিয়ন্ত্রণে আসবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন AKPS মহাপরিচালক দাতুক সেরি মোহদ শুহাইলি মোহদ জাইন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।