পুত্রাজায়া : মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ (JIM) পুত্রাজায়ার দেসা পাহলাওয়ানের পারসিয়ারান রিচিতে অবস্থিত একটি তিন তলা বিলাসবহুল বাংলোতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৪০ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে। এই বাংলোতে অবৈধ এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
অভিযানটি রাত ১২:২৭ মিনিটে শুরু হয় এবং এটি ইমিগ্রেশনের গোয়েন্দা ও বিশেষ অভিযান বিভাগের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। অভিযানটি দুই সপ্তাহ ধরে অনুসন্ধান এবং জনসাধারণের তথ্যের ভিত্তিতে আয়োজন করা হয়।
ইমিগ্রেশন বিভাগের উপ-মহাপরিচালক (অপারেশনস) দাতুক লোকমান এফেন্দি রামলি জানান, অভিযানে একজন চীনা নাগরিককে আটক করা হয়েছে যিনি পুরো অনৈতিক কার্যক্রমের প্রধান পরিকল্পনাকারী বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তার সঙ্গে আরও ৩৯ জনকে আটক করা হয়েছে।
আটককৃতদের মধ্যে ১১ জন পুরুষ এবং ১৯ জন চীনা নারী, ৫ জন ভিয়েতনামী নারী, ২ জন মিয়ানমারী নারী এবং ২ জন জাপানি নারী রয়েছে। তাদের বয়স ২১ থেকে ৪৩ বছরের মধ্যে।
প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, প্রধান পরিকল্পনাকারী ও একজন চীনা পুরুষ বৈধ কর্মসংস্থান পারমিটধারী ছিলেন। ছয়জন চীনা পুরুষ, ১৯ জন চীনা নারী, দুই জাপানি নারী এবং পাঁচ ভিয়েতনামী নারী সামাজিক ভিসা পারমিটধারী ছিলেন। বাকি আটকদের কোনো বৈধ ভ্রমণ নথি বা পারমিট ছিল না।
লোকমান এফেন্দি বলেন, বাংলোটি অনৈতিক কার্যক্রমের জন্য সম্পূর্ণভাবে সাজানো ছিল এবং এটি বিলাসবহুল আবাসিক এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় কর্মকাণ্ডটি সহজে ধরা পড়ছিল না।
তিনি আরও জানান, চীনা পুরুষ কর্মীরা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে গ্রাহক সংগ্রহ করতেন এবং লক্ষ্য করতেন শুধু স্থানীয় ও বিদেশি চীনা জাতীয়তাবিশিষ্ট গ্রাহক। প্রতি ৪৫ মিনিটের সেবার জন্য চার্জ ছিল RM1,000 এবং ৯০ মিনিটের জন্য RM3,500। এই কর্মকাণ্ড প্রায় ছয় মাস ধরে চলছিল বলে অনুমান করা হচ্ছে।
অভিযানে প্রধান পরিকল্পনাকারী চীনা নাগরিককে ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩-এর ধারা ৫৬(১)(ডি) এবং ইমিগ্রেশন বিধিমালা ১৯৬৩-এর ধারা ৩৯(বি)-এর অধীনে তদন্ত করা হচ্ছে। অন্য দুই চীনা পুরুষ ও দুই মিয়ানমারী নারীকে একই আইনের ধারা ৬(৩)-এর অধীনে তদন্ত করা হচ্ছে।
এছাড়া ৯ চীনা পুরুষ, ১৯ চীনা নারী, দুই জাপানি নারী ও পাঁচ ভিয়েতনামী নারীকে ইমিগ্রেশন বিধিমালা ৩৯(বি)-এর অধীনে তদন্ত করা হচ্ছে।
লোকমান এফেন্দি জানান, অবৈধ এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত সকল প্রতিষ্ঠান ও পারমিট অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ অব্যাহত থাকবে।