অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলাকারীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে একটি সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে।
রোববার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে এবং দেড় লাখ পুলিশ সদস্যকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যা আগামী জানুয়ারির মধ্যে শেষ হবে। এবারের নির্বাচনে বিজিবির ১ হাজার ১০০ প্লাটুনে ৩৩ হাজার সদস্য এবং ৮০ হাজার সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে।
তিনি বলেন, “নির্বাচনকে ঘিরে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। নির্বাচন যেন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়, সে লক্ষ্যে সব সংস্থার সমন্বয়ে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।”
সভায় মাঠপর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা—জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ওসিদের নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা নির্বাচনী কর্মকর্তারা যাতে কোনো অনিয়মে জড়িত না হয়, সে বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে থাকবে কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা ও বডি ওর্ন ক্যামেরা।”
পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, বর্তমানে সেখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শান্ত ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শারদীয় দুর্গাপূজার সময় কিছু ‘ফ্যাসিস্ট’ গোষ্ঠী বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলেও, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় তা ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হয়েছে—শুধু বাহক নয়, মাদকের গডফাদারদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
উপদেষ্টাদের সেফ এক্সিট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি দেশের বাইরে যাব কেন? আমার স্ত্রী-সন্তান এখানেই থাকে, বিদেশে কার কাছে যাব?”
অন্যদিকে, ট্রাইব্যুনালে পরোয়ানাভুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আইনে যা আছে, তাই হবে। আইন অনুযায়ীই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”