নয়াদিল্লি, ২৯ অক্টোবর (রয়টার্স) : ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার দেশের ঋণে জর্জরিত রাজ্য-পরিচালিত বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোকে (DISCOMs) আর্থিক সহায়তা দিতে ১ ট্রিলিয়ন রুপি (প্রায় ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)-এর একটি বিশাল বেইলআউট প্যাকেজ বিবেচনা করছে। এটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ খাত সংস্কার উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সরকারি সূত্র ও ভারতের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের নথি অনুযায়ী, এই তহবিল পেতে হলে রাজ্যগুলোকে তাদের বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলো বেসরকারীকরণ করতে হবে অথবা শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করতে হবে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতিটি রাজ্যের মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের অন্তত ২০% বেসরকারি কোম্পানির মাধ্যমে সরবরাহ করতে হবে, এবং রাজ্য সরকারগুলোকে বিতরণ সংস্থার একাংশ ঋণ নিজেদের দায়ে নিতে হবে।
বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় দুটি বিকল্প দিয়েছে, পূর্ণ বা সংখ্যাগরিষ্ঠ বেসরকারীকরণ: রাজ্যগুলো নতুন একটি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি গঠন করে তার ৫১% শেয়ার বেসরকারি খাতে বিক্রি করতে পারবে। এর বিনিময়ে তারা ৫০ বছরের জন্য সুদমুক্ত ঋণ এবং ৫ বছর মেয়াদি স্বল্পসুদী কেন্দ্রীয় ঋণ পাবে। আংশিক বেসরকারীকরণ: রাজ্যগুলো বিদ্যমান সরকারি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির ২৬% পর্যন্ত শেয়ার বিক্রি করতে পারবে, যার বিনিময়ে ৫ বছরের জন্য স্বল্পসুদী কেন্দ্রীয় ঋণ পাওয়া যাবে।
যেসব রাজ্য বেসরকারীকরণে আগ্রহী নয়, তাদেরকে ৩ বছরের মধ্যে বিদ্যুৎ সংস্থাকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করতে হবে, তাহলেই তারা অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় তহবিল থেকে ঋণ নিতে পারবে।
নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত ভারতের সরকারি বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলোর ক্ষতির পরিমাণ ৭.০৮ ট্রিলিয়ন রুপি (৮০.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) এবং মোট ঋণ ৭.৪২ ট্রিলিয়ন রুপি (৮৪.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)।
গত দুই দশকে তিনটি কেন্দ্রীয় বেইলআউট সত্ত্বেও এই সংস্থাগুলো এখনো আর্থিকভাবে দুর্বল, মূলত অতিরিক্ত ভর্তুকি, বিল আদায়ে অদক্ষতা এবং ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতার কারণে।
বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে এই পরিকল্পনার চূড়ান্ত রূপ নিয়ে আলোচনা চলছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কেন্দ্রীয় বাজেটে এই ঘোষণা আসতে পারে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিকল্পনা ভারতের বিদ্যুৎ খাতের “সবচেয়ে দুর্বল কড়ি” বিতরণ ব্যবস্থাকে টেকসই আর্থিক কাঠামোয় আনতে সাহায্য করতে পারে।
“বেসরকারীকরণ বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলোর আর্থিক ও কার্যকর দক্ষতা বৃদ্ধিতে অত্যন্ত জরুরি,” বলেন দেবব্রত ঘোষ, অরোরা এনার্জির ভারতের প্রধান।
“তবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে রাজনৈতিক প্রতিরোধ আসতে পারে এবং এর জন্য দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন।”
এই সংস্কার পরিকল্পনা থেকে আদানি পাওয়ার, রিলায়েন্স পাওয়ার, টাটা পাওয়ার, সিইএসসি ও টরেন্ট পাওয়ার–এর মতো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হতে পারে, কারণ তারা রাজ্যগুলোর বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থায় নতুন শেয়ার বা মালিকানা অংশ পেতে পারে।
পূর্ববর্তী সংস্কার প্রচেষ্টাগুলো শ্রমিক ইউনিয়ন ও বিরোধী রাজনৈতিক দলের তীব্র বিরোধিতার কারণে ব্যর্থ হয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এবার মোদি সরকারের এই নতুন পদক্ষেপ ভারতের বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত কাঠামোগত সংস্কারের দ্বার খুলতে পারে।