ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় বিপুল পরিমাণ মাদকসহ মালয়েশীয় এক বাণিজ্যিক বিমানের সহকারী পাইলট গ্রেফতারের ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে। এই আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের সাথে জড়িত সন্দেহে মালয়েশিয়ায় ৬ জনকে আটক করেছে বুকিত আমানের নারকোটিক্স ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (জেএসজেএন)। আটককৃতদের মধ্যে চারজন গ্রেফতার এড়াতে থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে পালিয়ে গেলেও দেশে ফেরার পর ইমিগ্রেশনে ধরা পড়েন।
গত ২০ থেকে ২৮ আগস্ট পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে ২৩ থেকে ৫০ বছর বয়সী ওই ছয়জনকে আটক করা হয়। এর আগে, গত ১১ থেকে ১৫ আগস্ট জাকার্তায় গিয়ে ৩৯ বছর বয়সী অভিযুক্ত সহকারী পাইলটকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মালয়েশীয় তদন্তকারীদের একটি দল। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এই সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়।
বুকিত আমানের নারকোটিক্স ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টের প্রধান দাতুক হুসেইন ওমর খান জানান, গ্রেফতারকৃতরা এই পাচার চক্রে ‘আপলাইন’ ও ‘ডাউনলাইন’ হিসেবে মাদক সরবরাহ ও বাহকের কাজ করত।
সহকারী পাইলটের গ্রেফতারের খবর পেয়ে চক্রের চার সদস্য বিদেশে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে লংকাউইয়ের কুয়াহ্ ফেরি টার্মিনাল দিয়ে থাইল্যান্ড থেকে এবং পেনাং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে ভিয়েতনাম থেকে দেশে ফেরার সময় তাদের আটক করে পুলিশ। বাকী দুজনকে পেনাংয়ের বুকিত মের্তাজাম এবং সেল্যাঙ্গোরের ক্লাং থেকে গ্রেফতার করা হয়।
বর্তমানে আটক ছয়জনকে বিপজ্জনক ওষুধ আইন ১৯৮৫-এর অধীনে রাখা হয়েছে, যেখানে তদন্তের প্রয়োজনে পুলিশ তাদের সর্বোচ্চ ৬০ দিন আটকে রাখতে পারবে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি কুয়ালালামপুর থেকে মালেশিয়া এয়ারলাইন্সের ‘এমএইচ ৭২৭’ ফ্লাইটে জাকার্তার সোয়েকার্নো-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ওই সহকারী পাইলটকে গ্রেফতার করে ইন্দোনেশীয় কাস্টমস। তার ব্যাগেজ স্ক্যান করে প্রায় ৪৫ মিলিয়ন মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত মূল্যের ২৫ কেজি ওজনের ৭০ হাজার ১১৪টি এক্সট্যাসি ট্যাবলেট এবং ৪ গ্রাম মেথঅ্যামফিটামিন জব্দ করা হয়। ইন্দোনেশীয় পুলিশের মতে, মাত্র ৫০ হাজার রিঙ্গিতের লোভে ওই পাইলট জাকার্তার একটি হোটেলে মাদকগুলো পৌঁছে দেয়ার চুক্তি করেছিলেন।