ব্যাংকক, ৯ অক্টোবর : মধ্য মিয়ানমারে এক ধর্মীয় উৎসবে ভয়াবহ বিমান হামলার দায় স্বীকার করেছে দেশটির সামরিক সরকার। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মোটরচালিত প্যারাগ্লাইডার থেকে নিক্ষিপ্ত বোমার আঘাতে অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজন শিশু ছিল।
বৃহস্পতিবার সেনাবাহিনীর তথ্য কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়, এই হামলায় নিহতদের জন্য দায়ী “বিরোধী প্রতিরোধযোদ্ধারা”, যারা নাকি “বেসামরিক জনগণকে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে” তাদের “বিরোধী উসকানিমূলক কর্মসূচিতে।”
হামলাটি সোমবার রাতে সংঘটিত হয় সাগাইং অঞ্চলের চাউং-উ টাউনশিপের বন তো গ্রামে অবস্থিত একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুইটি মোটরচালিত প্যারাগ্লাইডার থেকে দুই দফায় চারটি বোমা ফেলা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, এসব বোমা ছিল ১২০ মিমি মর্টার শেল যা আঘাতের সঙ্গে সঙ্গেই বিস্ফোরিত হয়।
উৎসবস্থলে তখন বৌদ্ধ উপবাসের শেষ দিন উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী তেলের প্রদীপ প্রজ্বলন অনুষ্ঠান চলছিল। সেই সঙ্গে অংশগ্রহণকারীরা রাজবন্দিদের মুক্তির দাবি ও ডিসেম্বরে নির্ধারিত সামরিক সরকারের নির্বাচনের প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করছিলেন।
স্থানীয় এক প্রতিরোধযোদ্ধা জানিয়েছেন, হামলায় অন্তত ২৪ জন নিহত ও ৫০ জনেরও বেশি আহত হন। নিহতদের মধ্যে সাধারণ গ্রামবাসী, রাজনৈতিক কর্মী ও স্থানীয় সশস্ত্র প্রতিরোধ সংগঠনের সদস্যরা ছিলেন। তিনি সামরিক সরকারের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “মানুষ স্বেচ্ছায় অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিল, কাউকে জোর করা হয়নি।”
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “আকাশপথে নির্বিচার বোমা হামলা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।”
২০২১ সালের অং সান সু চি’র নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করার পর থেকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্রোহ দমন করতে ক্রমবর্ধমানভাবে বিমান হামলার আশ্রয় নিচ্ছে। সাগাইং অঞ্চলটি সেনাবিরোধী প্রতিরোধ আন্দোলনের অন্যতম ঘাঁটি।
এদিকে, পৃথক এক বিবৃতিতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ হাসান নেপিদোতে সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে মানবিক সহায়তা, শান্তি প্রক্রিয়া এবং বিতর্কিত নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়।
বর্তমানে মিয়ানমার সংকট মোকাবিলায় আঞ্চলিক সংস্থা আসিয়ান (ASEAN)-এর নেতৃত্ব দিচ্ছে মালয়েশিয়া। তবে সংগঠনটি এখনো পর্যন্ত দেশটিতে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরাতে ব্যর্থ হয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, মিয়ানমারের চলমান সংঘাত দ্রুত একটি ভয়াবহ মানবিক সংকটে পরিণত হচ্ছে, যা এখন দেশের সীমান্ত ছাড়িয়ে পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকেও হুমকির মুখে ফেলেছে।