লন্ডন: লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ থেকে নিষিদ্ধ সংগঠন ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-এর সমর্থন জানানোর অভিযোগে ৫২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের সন্ত্রাসবিরোধী আইন ভঙ্গের অভিযোগে এটি এখন পর্যন্ত লন্ডনে এক দিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক গ্রেপ্তারের ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, ৫২১ জনকে পার্লামেন্ট স্কয়ারে অনুষ্ঠিত এক বিক্ষোভ থেকে আটক করা হয়, যেখানে তারা প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের পক্ষে স্লোগান ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করছিলেন। বাকি একজনকে গ্রেপ্তার করা হয় নিকটবর্তী রাসেল স্কয়ার থেকে, যেখানে প্যালেস্টাইন কোয়ালিশনের আয়োজিত মিছিলে হাজারো মানুষ গাজার যুদ্ধের বিরোধিতা করছিলেন।
এ ছাড়া পুলিশ আরও ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে, যার মধ্যে ছয়জন পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে আটক হয়। তবে কোনো কর্মকর্তা গুরুতর আহত হননি।
পুলিশের তথ্যমতে, আটক ব্যক্তিদের গড় বয়স ৫৪ বছর। তাঁদের মধ্যে ছয়জন কিশোর, ৯৭ জন সত্তরোর্ধ্ব এবং ১৫ জন আশির কোঠায় রয়েছেন। নারী ও পুরুষের সংখ্যা প্রায় সমান।
প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে যুক্তরাজ্য সরকার ৫ জুলাই নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এর আগে সংগঠনটি দক্ষিণ ইংল্যান্ডের একটি বিমানঘাঁটিতে অনধিকার প্রবেশ করে দুইটি বিমানে প্রায় ৭০ লাখ পাউন্ড (৯৩ লাখ মার্কিন ডলার) ক্ষতি করার দায় স্বীকার করে। সংগঠনটির দাবি, গাজার যুদ্ধে ইসরায়েলকে ব্রিটেনের পরোক্ষ সামরিক সহায়তার প্রতিবাদে তারা এই পদক্ষেপ নেয়।
ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, প্যালেস্টাইন অ্যাকশন অন্যান্য “গুরুতর হামলার” সঙ্গেও জড়িত, যেখানে সহিংসতা, গুরুতর আহত এবং ব্যাপক সম্পত্তি ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ইয়েভেট কুপার বলেন, “যুক্তরাজ্যের জাতীয় নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। মূল্যায়ন স্পষ্ট এটি কোনো অহিংস সংগঠন নয়।”
তবে জাতিসংঘ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং গ্রিনপিসসহ বহু সংগঠন এই নিষেধাজ্ঞাকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ ও আইনি ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে। গ্রিনপিস যুক্তরাজ্যের সহ-পরিচালক আরিবা হামিদ বলেন, “সরকার এখন মেট পুলিশকে চিন্তার পুলিশে পরিণত করেছে, সরাসরি প্রতিবাদকে সন্ত্রাসবাদ হিসেবে গণ্য করছে।”
৫ জুলাই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর থেকে দেশজুড়ে অনুরূপ বহু গ্রেপ্তার হয়েছে। শনিবার আটক হওয়া ৩০ জন আগেও প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের বিক্ষোভে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। রবিবার দুপুর পর্যন্ত ১৮ জন আটক ছিলেন, তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁদের জামিনে মুক্তি দেওয়ার কথা রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট এখন অভিযোগ গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় কেস ফাইল প্রস্তুত করবে। শুধু ৫ জুলাইয়ের গ্রেপ্তার থেকেই ২৬টি কেস ফাইল দ্রুত প্রসিকিউশনের কাছে পাঠানো হবে। প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের সদস্য হওয়া বা সমর্থন করা যুক্তরাজ্যে এখন অপরাধ, যার সর্বোচ্চ শাস্তি ১৪ বছরের কারাদণ্ড।