সৌদি আরবে আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ২১ হাজারেরও বেশি প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলাবাহিনী।
রোববার (১৩ অক্টোবর) সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতির বরাত দিয়ে এই খবর জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ইংরেজি দৈনিক গালফ নিউজ।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২ অক্টোবর থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত দেশজুড়ে পরিচালিত অভিযানে মোট ২১ হাজার ৪০৩ জন প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এটি ছিল সৌদি আরবের চলমান বৃহত্তর নিরাপত্তা অভিযানের অংশ।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী,
এছাড়া অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টার সময় আরও ১,৮৭৪ জন ধরা পড়েছেন। এদের মধ্যে ৫৪% ইথিওপিয়ান, ৪৫% ইয়েমেনি এবং ১% অন্যান্য দেশের নাগরিক বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
একই সময় অবৈধভাবে সৌদি ত্যাগের চেষ্টা করায় আরও ৩৬ জন প্রবাসীকে এবং অবৈধ প্রবাসীদের পরিবহন বা আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে ২৯ জন স্থানীয় বাসিন্দাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বর্তমানে মোট ৩১ হাজার ৩৪৪ জন প্রবাসীর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে, যাদের মধ্যে ২৯ হাজার ৮৪০ জন পুরুষ ও ১,৫০৪ জন নারী।
এর মধ্যে ২৩,৮২৪ জন প্রবাসীকে নিজ নিজ কূটনৈতিক মিশনের মাধ্যমে দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, এবং ২,৭৬৪ জনের ফেরত পাঠানো চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ইতোমধ্যে ১১,৮৪৯ জনকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
সৌদি আইনে অবৈধভাবে সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা বা সহায়তার শাস্তি অত্যন্ত কঠোর—১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানা পর্যন্ত হতে পারে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে নাগরিক ও প্রবাসীদের নিয়মিত সতর্ক করে আসছে।
বর্তমানে প্রায় ৩ কোটি ৪৮ লাখ মানুষের বসবাস সৌদি আরবে, যার মধ্যে লাখ লাখ প্রবাসী শ্রমিক বিভিন্ন দেশ থেকে সেখানে কর্মরত। দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যমে নিয়মিতভাবে আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযানের খবর প্রকাশিত হচ্ছে।