শাহ আলম, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ — অভিবাসী পাচার সংক্রান্ত একটি মামলায় মালয়েশিয়ার আদালত এক বাংলাদেশি নাগরিককে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন বলে জানিয়েছে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ (জাবাতান ইমিগ্রেসেন মালয়েশিয়া–জেআইএম)।
বিভাগের বিবৃতিতে বলা হয়, সেলাঙ্গরের শাহ আলম হাইকোর্ট (ক্রিমিনাল কোর্ট ৬) মানবপাচার ও অভিবাসী পাচার প্রতিরোধ আইন ২০০৭-এর (আইন ৬৭০) ধারা ২৬এইচ-এর অধীনে ২১ বছর বয়সী ওই বাংলাদেশি নাগরিককে দোষী সাব্যস্ত করেন। আদালতের মতে, অভিযুক্ত ব্যক্তি চারজন বাংলাদেশি অভিবাসীকে গোপনে আশ্রয় ও সুরক্ষা দিয়েছিলেন।
দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তি রাব্বি হোসেনের বিরুদ্ধে ২২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে রায় ঘোষণা করা হয়। শুনানিতে প্রমাণিত হয়, তিনি একটি অভিবাসী আশ্রয়কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কাজ করতেন, যা অভিবাসী পাচার কার্যক্রমে ট্রানজিট কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। আদালত নির্দেশ দেন, তার কারাদণ্ড গ্রেপ্তারের তারিখ থেকেই কার্যকর হবে।
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের সদর দপ্তরের নেতৃত্বে পরিচালিত একটি বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে মামলাটি উদ্ঘাটিত হয়। ৪ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে পেটালিং জায়ার প্রাইমা দামানসারার রামপাই ইদামান ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে একটি আবাসিক ইউনিট থেকে অভিযুক্তসহ চারজন বাংলাদেশি অভিবাসীকে আটক করা হয়।
জেআইএম জানিয়েছে, অভিবাসী পাচার ও মানবপাচারের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান কঠোর ও আপসহীন। অবৈধ অভিবাসীদের নিয়োগ, আশ্রয় বা সহায়তায় জড়িত ব্যক্তি, সিন্ডিকেট, নিয়োগকর্তা কিংবা সম্পত্তির মালিকদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় না দিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বৈধ অনুমতি ছাড়া মালয়েশিয়ায় প্রবেশ বা অবস্থানকারী বিদেশিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
বিভাগটি সাধারণ জনগণকে ইমিগ্রেশন আইন লঙ্ঘনকারীদের সহায়তা না করার এবং প্রচলিত আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। অবৈধ কার্যক্রম সংক্রান্ত তথ্য জেআইএম-এর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ চ্যানেলের মাধ্যমে জানানো যেতে পারে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইমিগ্রেশন বিভাগ ভবিষ্যতেও তাদের আইনপ্রয়োগ কার্যক্রম আরও জোরদার করবে।