মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বন্দরনগরী কিয়াকফিউয়ের কাছে সামরিক সরকার ও আরাকান আর্মির (্এএ) মধ্যে তুমুল সংঘর্ষে জান্তার একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নিহত হয়েছেন।
দেশটির সংবাদমাধ্যমজানিয়েছে, গত সোমবার কিয়াকফিউ-রাম্রি সড়কের পাশে প্যাইং সি কে গ্রাম–সংলগ্ন এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ১১ নম্বর ডিভিশনের কৌশলবিদ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কিয়াও মিও অং এবং একজন সেনা ক্যাপ্টেন গুলিবিদ্ধ হন।
পরে মারা যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কিয়াও মিও আউং। মঙ্গলবার তার মরদেহ একটি বিশেষ উড়োজাহাজে ইয়াঙ্গুনে পাঠানো হয়েছে। তবে গুলিবিদ্ধ ক্যাপ্টেন মারা গেছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
রাখাইনের গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, কিয়াউকফিউ অঞ্চলে যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। এ ছাড়া কিয়াকফিউ শহর থেকে ৫ কিলোমিটার দক্ষিণে কিয়াকফিউ-রাম্রি সড়কের পিয়াং সি কে গ্রামের আশেপাশে এখন লড়াই চলছে। আরাকান আর্মি পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তর রক্ষাকারী বেশ কয়েকটি জান্তা অবস্থান দখল করেছে।
কিয়াকফিউ শহর রক্ষায় জান্তা সরকার বিমান, নৌ ও স্থলপথে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। শহরটিতে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রকল্প রয়েছে চীনের। এসব প্রকল্প রক্ষায় সেখানে নিয়োজিত চীনা বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থাগুলোও ড্রোন হামলায় জান্তা সেনাদের সহায়তা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরাবতির প্রতিবেদন অনুসারে, গত ফেব্রুয়ারিতে জান্তা সরকার বেসরকারি নিরাপত্তা পরিষেবা আইন প্রণয়ন করে। এর অধীনে চীনের সশস্ত্র নিরাপত্তা কর্মীদের ‘বেইজিংয়ের স্বার্থ রক্ষার জন্য’ মিয়ানমারে কাজ করার অনুমতি দেয়া হয়। ফেব্রুয়ারি থেকে চীনা কর্মীরা কিয়াকফিউতে এসেছেন। ভারত মহাসাগরে প্রবেশাধিকার পেতে অঞ্চলটিতে একটি প্রধান বন্দর তৈরি করছে চীন।