কুয়ালালামপুর: চিকিৎসা সরঞ্জামের বাজারজাত-পূর্ব অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ ও সমন্বিত করতে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোতে ‘সিঙ্গেল সাবমিশন মডেল’ চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে সদস্য দেশগুলোর জন্য মেডিকেল ডিভাইস অনুমোদনের প্রক্রিয়া আরও সমন্বিত হবে।
মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী দাতুক সেরি ড. জুলকেফলি আহমাদ বলেছেন, আসিয়ান সদস্য দেশগুলো এ উদ্যোগে সম্মত হলে প্রস্তাবিত মডেল বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে বিষয়টি আসিয়ান দেশগুলোর মধ্যে আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে সদস্য দেশগুলো নিজেদের মতামত ও সর্বোত্তম চর্চা পরস্পরের সঙ্গে বিনিময় করছে।
আজ ১৭তম আসিয়ান স্বাস্থ্য মন্ত্রীদের বৈঠক (AHMM) ও সংশ্লিষ্ট বৈঠকের পর ‘আসিয়ান স্ট্র্যাটেজিক হেলথ এজেন্ডা (ASHA) ২০২৬–২০৩০’ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
জুলকেফলি বলেন, আসিয়ান স্বাস্থ্য মন্ত্রীদের বৈঠকের সাইড ইভেন্টে এ উদ্যোগ নিয়ে সদস্য দেশগুলোর কাছ থেকে ইতিবাচক মতামত পাওয়া গেছে। বিশেষ করে ফিলিপাইন একটি আন্তঃসংযুক্ত ও পরস্পর-সামঞ্জস্যপূর্ণ (interoperable) ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে।
তবে ১১টি আসিয়ান সদস্য দেশকে নিয়ে একটি অভিন্ন ও আন্তঃসংযুক্ত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সময় লাগবে বলে জানান তিনি। কারণ, প্রতিটি দেশের স্বাস্থ্য খাতের নিয়ন্ত্রক কাঠামো ও আইনগত উন্নয়নের পর্যায় এক নয়।
কিছু দেশ এখনো তাদের নিয়ন্ত্রক ও আইনগত কাঠামো তৈরি করছে। অন্যদিকে সিঙ্গাপুর ও ফিলিপাইনের মতো কয়েকটি দেশ এ ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে অনেক এগিয়ে রয়েছে।
জুলকেফলি জানান, বুধবার আসিয়ান সদস্য দেশগুলো নীতিগতভাবে মেডিকেল ডিভাইসের বাজারজাত-পূর্ব অনুমোদনের জন্য সিঙ্গেল সাবমিশন মডেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়নে সমর্থন জানিয়েছে।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত নথি জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে মালয়েশিয়া সমন্বয়ক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।
১৭তম AHMM-এর কারিগরি অধিবেশনের অংশ হিসেবে আয়োজিত প্রথমবারের মতো আসিয়ান রাউন্ডটেবিল ডিসকাশন অন মেডিকেল ডিভাইসেস-এ এ বিষয়ে সমঝোতা হয়। বৈঠকটির সভাপতিত্ব করেন জুলকেফলি।
দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিষয়ে জুলকেফলি বলেন, সিঙ্গাপুরের সঙ্গে স্বাস্থ্য সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতা স্মারক (MoU) আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।
এর আওতায় ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা, সক্রিয় বার্ধক্য এবং মালয়েশিয়ার মেডিকেল ডিভাইস অথরিটি (MDA) ও সিঙ্গাপুরের হেলথ সায়েন্সেস অথরিটি (HSA)-এর মধ্যে নিয়ন্ত্রক সহযোগিতা ও পারস্পরিক নির্ভরতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গেও ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা, ঐতিহ্যবাহী ও পরিপূরক চিকিৎসা এবং সীমান্তবর্তী স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে সহযোগিতা আরও জোরদার করা হচ্ছে।
তিনি জানান, ২০২৫ সালে মালয়েশিয়ার মেডিকেল ট্যুরিজম খাত থেকে ২.২ বিলিয়ন রিঙ্গিতের বেশি আয় হয়েছে।
চীন ও জাপানের সঙ্গে কৌশলগত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও বিনিয়োগ আরও সম্প্রসারিত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
জুলকেফলি বলেন, ১৭তম AHMM আসিয়ান স্বাস্থ্য কূটনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক তৈরি করেছে।
প্রথমবারের মতো আসিয়ান–যুক্তরাষ্ট্র এবং আসিয়ান–জাপান স্বাস্থ্য মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাশাপাশি চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হয়েছে।
তার মতে, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আঞ্চলিক স্বাস্থ্যসেবা, মেডিকেল প্রযুক্তি, নিয়ন্ত্রক সহযোগিতা, ডিজিটাল স্বাস্থ্য এবং সীমান্তবর্তী স্বাস্থ্যসেবায় আসিয়ান দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে।