ঘুষের বিনিময়ে বাংলাদেশি কর্মী ও পর্যটকদের ভিসা দেওয়ার অভিযোগে সন্দেহভাজন দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। গ্রেফতারকৃত দুইজনকে ৪ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার ২৮ জুলাই রিমান্ডে নেওয়ার তথ্য জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে।
মালয়েশিয়ার দুর্নীতি দমন কমিশন বলেছে, তারা ঢাকায় মালয়েশিয়ান হাইকমিশনে অবস্থানরত একজন এনফোর্সমেন্ট এজেন্সি অফিসার এবং একটি শ্রম সরবরাহ কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে গ্রেপ্তার করা হয়।
বৃহস্পতিবার ২৭ জুলাই স্থানিয় সময় সন্ধ্যা ৬.৩০ টায় পুত্রজায়াতে দুর্নীতি দমন কমিশনের সদর দফতরে উপস্থিত হতে বলা হলে এ সময় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তবে তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। গ্রেপ্তারের পর, শাহ আলম ম্যাজিস্ট্রেট মাগেশ্বরী মুনিন্দি দুইজনের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন, যা ৩১ জুলাই শেষ হবে।
তদন্তে জানা গেছে, ঢাকায় মালয়েশিয়ান হাইকমিশনের একজন এনফোর্সমেন্ট এজেন্সি অফিসার বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার কর্মসংস্থান সংস্থার সাথে ২০২১ সাল থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে ঘুষের বিনিময়ে বিদেশী ভিসা (ভিএলএন) সিস্টেমের অপব্যবহার করে বাংলাদেশী নাগরিকদের মালয়েশিয়ায় কাজ করার অনুমতি দিয়ে আসছিলেন।
উপরন্তু এনফোর্সমেন্ট অফিসার এবং তার সহযোগী অফিসাররা ২০২১ সাল থেকে অনুমোদিত প্রতিটি আবেদনের আবেদনের বিপরীতে ৩শ থেকে ৫০০ ইউএস ডলার পর্যন্ত ঘুষ নিয়ে বাংলাদেশের নাগরিকদের ভিসার আবেদন অনুমোদন করেছে। সরকারের নির্ধারিত ফি প্রতিটি আবেদনে শুধুমাত্র ১০৫ রিঙ্গিত সত্ত্বেও সংগৃহীত মোট পরিমাণ ১০০ মিলিয়ন রিঙ্গিতের বেশি।
দুর্নীতি দমন কমিশন (এমএসিসি) প্রধান আজম বাকী গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং বলেছেন এমএসিসি আইন ২০০৯ এর ১৭এ ধারায় মামলাটি আরও অধিকতর তদন্তকরা হচ্ছে।
এর আগে চলতি বছরের ২০ এপ্রিল ঘুষের বিনিময়ে বাংলাদেশি কর্মী ও পর্যটকদের ভিসা দেওয়ার অভিযোগে ঢাকায় নিযুক্ত মালয়েশিয়া দূতাবাসের দুই কর্মকর্তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়। এবং সেসময় প্রায় ৩ দশমিক ১ মিলিয়ন মালয়েশীয় রিঙ্গিত মূল্যের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়। এই অর্থ ছাড়াও মামলায় জড়িত কর্মকর্তাদের জমির আটটি প্লট জব্দ করা হয়। তদন্তকারীরা সেসময় ওই দুই কর্মকর্তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণও পাওয়া গেছে। ভিসা দুর্নীতির এই মামলায় জড়িতদের ২০টির বেশি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়।
এ ছাড়া মালয়েশিয়ায় বিদেশিকর্মী নিয়োগে কেলেঙ্কারির অভিযোগে দুই শীর্ষ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয় দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়। বৈদেশিক শ্রম কোটা অনুমোদনের বিষয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্তের পর মন্ত্রণালয়ের ডিজিসহ দুই শীর্ষ কর্মকর্তাকে তাদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।