ইতালি: ইতালির ব্রেশিয়া প্রদেশে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত এক বৃহৎ অভিযানে ৪১৭ জন বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় কুয়েস্টুরা (পুলিশ সদর দপ্তর) সমন্বিতভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে, যা অবৈধ অভিবাসন ও সংশ্লিষ্ট অপরাধ প্রতিরোধের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
১১ জন অপরাধীকে ইতালি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, যাঁদের বিরুদ্ধে চুরি, মাদক পাচার, ছিনতাই ও যৌন সহিংসতার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
এদের মধ্যে কিছুজনকে ইতোমধ্যে বিমানযোগে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে, আর বাকিরা বর্তমানে রিপ্যাট্রিয়েশন সেন্টারে (সিআরপি) ফেরতের অপেক্ষায় রয়েছেন।
৩৫ জন অপরাধমুক্ত কিন্তু অবৈধভাবে বসবাসরত ব্যক্তিকে স্বেচ্ছায় দেশত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের ৭ দিনের মধ্যে ইতালি ত্যাগ করতে বলা হয়েছে। সময় শেষ হলে তাদের জোরপূর্বক বহিষ্কার করা হবে।
সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ হিসেবে ৩৭১ জনের পারমেসো দি সোজ্জোরনো (বসবাসের অনুমতি) বাতিল করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, ডকুমেন্ট ও বৈধতার শর্ত যাচাই করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এখন এই ব্যক্তিদের হাতে ১৪ দিন সময় আছে—এর মধ্যে ইতালি না ছাড়লে তাঁরা অবৈধ অভিবাসী হিসেবে বিবেচিত হবেন এবং আইনি শাস্তির মুখে পড়বেন।
এই অভিযানে যেসব বিদেশিরা জড়িত ছিলেন, তারা এসেছেন মিশর, সেনেগাল, মরক্কো, আলবেনিয়া, নাইজেরিয়া, তিউনিসিয়া, কলম্বিয়া ও চীন থেকে যা ঘটনাটির আন্তর্জাতিক মাত্রা স্পষ্ট
ব্রেশিয়ার কুয়েস্টর প্রধান পুলিশ কর্মকর্তা বলেন
রাষ্ট্র ও নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। অবৈধভাবে বসবাসরত কেউ যেন ইতালিতে স্থায়ীভাবে গড়ে না ওঠে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
আইন শুধু ঘোষণার জন্য নয়, প্রয়োগের মাধ্যমেই বাস্তব নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
এই অভিযানটি ব্রেশিয়া কুয়েস্টুরার অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে চলমান কড়াকড়ির অংশ। ইতালির জাতীয় নিরাপত্তা নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অবৈধভাবে বসবাসরত বা অপরাধে জড়িত বিদেশিদের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
কুয়েস্টুরা আরও জানিয়েছে, এই ধরনের তল্লাশি ও ডকুমেন্ট যাচাই কার্যক্রম চলমান থাকবে।