মস্কো, ৫ সেপ্টেম্বর : রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পশ্চিমা মিত্রদের প্রস্তাবিত “নিরাপত্তা বাহিনী” ইউক্রেনে মোতায়েনের পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং সতর্ক করেছেন যে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ইউক্রেনে যে কোনো বিদেশি সেনা মোতায়েন করা হলে তারা হবে বৈধ লক্ষ্যবস্তু।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বৃহস্পতিবার প্যারিসে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর জানান, ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ২৬টি মিত্রদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্থল, নৌ বা আকাশপথে সেনা মোতায়েন করা হবে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এসব সেনা ফ্রন্টলাইনে নয়, বরং “নতুন বড় ধরনের আগ্রাসন ঠেকাতে” মোতায়েন করা হবে।
পুতিন শুক্রবার ভ্লাদিভোস্তকে একটি অর্থনৈতিক ফোরামে বলেন, “যদি দীর্ঘমেয়াদি শান্তির দিকে নিয়ে যাওয়ার মতো কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, তবে (বিদেশি সেনাদের) উপস্থিতির কোনো প্রয়োজন নেই।” তিনি আরও বলেন, এ ধরনের চুক্তি হলে রাশিয়া তা “সম্পূর্ণভাবে” মেনে চলবে।
ইউক্রেন ও তার মিত্ররা অবশ্য এই বক্তব্যে আশ্বস্ত নয়। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি প্যারিস বৈঠকের সিদ্ধান্তকে নিরাপত্তা নিশ্চিতে “প্রথম বাস্তব পদক্ষেপ” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি আরও জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় ইউক্রেনের আকাশরক্ষায় “সর্বোচ্চ সুরক্ষা” নিয়ে কথা হয়েছে। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা সম্ভবত আকাশপথেই দেওয়া হবে।
পুতিন ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি বৈঠক মস্কোতে আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন এবং নিরাপত্তা নিশ্চয়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে জেলেনস্কি এই প্রস্তাবকে “অবাস্তব” বলে উড়িয়ে দিয়েছেন এবং নিরপেক্ষ কয়েকটি রাজধানীর নাম বিকল্প হিসেবে উত্থাপিত হয়েছে।
পশ্চিমা দেশগুলোর মতে, রাশিয়া সময়ক্ষেপণ করছে এবং একই সঙ্গে ইউক্রেনের আরও ভূখণ্ড দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। ৪০ মাস ধরে চলা পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের মধ্যে রাশিয়া দাবি করছে, তাদের সেনারা একাধিক ফ্রন্টে অগ্রসর হচ্ছে।
সম্প্রতি আলাস্কায় অনুষ্ঠিত পুতিন-ট্রাম্প বৈঠকের পর যুদ্ধবিরতির আশা তৈরি হলেও, বর্তমানে সেই সম্ভাবনা অনেক দূরে সরে গেছে।