পুত্রজায়া, ১১ সেপ্টেম্বর : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিজিটাল রূপান্তরের অগ্রযাত্রা মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতার সাথে গভীরভাবে যুক্ত থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম।

বৃহস্পতিবার পুত্রজায়ায় অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন সোশ্যাল সায়েন্সেস অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ (ICOSH) 2025)-এর উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি প্রযুক্তিগত উন্নয়নের সুফল ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোকপাত করেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, মালয়েশিয়া সেমিকন্ডাক্টর ও বৈদ্যুতিক-ইলেকট্রনিক্স (E&E) খাতে বড় বিনিয়োগ আকর্ষণ করেছে। একই সঙ্গে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দ্রুত এআই-ভিত্তিক অনুষদ চালু করা এবং গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ত্বরান্বিত করায় তিনি প্রশংসা করেন।
তবে আনোয়ার সতর্ক করে দেন যে “প্রোডাক্টিভিটি প্যারাডক্স” নামের এক বাস্তবতা বিদ্যমান—যেখানে বিলিয়ন রিঙ্গিত বিনিয়োগ সত্ত্বেও উৎপাদনশীলতার সমানুপাতিক বৃদ্ধি ঘটছে না। তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল বিভাজন ক্রমশ বাড়ছে, যা সামাজিক ন্যায়বিচারকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে পিছিয়ে দিতে পারে।
“প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক না কেন, তা মানবিক মূল্যবোধ থেকে বিচ্ছিন্ন হতে পারে না,” তিনি জোর দিয়ে বলেন। “এআই কেবল তখনই ন্যায্য ও উপকারী হবে, যখন তা নৈতিকতা, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও নীতির ভিত্তিতে বিকশিত হবে, যেখানে সত্য প্রতিফলিত হবে, কেবলমাত্র প্রাণহীন বুদ্ধিমত্তা নয়।”
গাজায় চলমান মানবিক সংকটের প্রসঙ্গ টেনে আনোয়ার বলেন, আজ প্রযুক্তি ও এআই অন্যায় ও দমন-পীড়নকে বৈধতা দেওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রযুক্তির উৎকর্ষ যেন কখনো মানবিক সহমর্মিতা ও করুণাবোধকে ঢেকে না দেয়।
“আমরা যখন আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখি, তখন অবশ্যই মনে রাখতে হবে পৃথিবীতে শিকড় গেড়ে থাকতে হবে—যেখানে আমাদের সংস্কৃতি, মূল্যবোধ, ইতিহাস, ধর্ম ও নৈতিকতা দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত,” তিনি বলেন।