মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ২০২৭ সালের জাতীয় বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। সশস্ত্র বাহিনীর প্রস্তুতি আরও জোরদার করা এবং সদস্যদের কল্যাণ নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আজ শুক্রবার মালাক্কার তেরেনদাক সেনা শিবিরে আয়োজিত ‘সেমারাক কেনেগারান’ কর্মসূচিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে আনোয়ার বলেন, দেশের শান্তি সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। তাই সম্ভাব্য যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনীকে সব সময় প্রস্তুত থাকতে হবে।
আনোয়ার ইব্রাহিম যিনি দেশটির অর্থমন্ত্রীও। বলেন, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও অস্ত্র কেনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম, অতিরিক্ত কমিশন বা মধ্যস্বত্বভোগীদের লাভের সুযোগ রাখা যাবে না।
তিনি জানান, প্রস্তাবিত বাড়তি বরাদ্দের একটি বড় অংশ সেনাসদস্যদের কল্যাণে ব্যয় করা হবে। এর আওতায় আবাসন উন্নয়ন, নতুন হাসপাতাল নির্মাণ এবং বিশুদ্ধ পানির মতো মৌলিক সুবিধার রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাদানি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত তিন বছরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাজেট ৩৫ শতাংশের বেশি বাড়ানো হয়েছে। তবে শুধু সমর্থনের কথা বললেই হবে না, সেনাবাহিনীর সরঞ্জাম উন্নত করা এবং ক্রয়প্রক্রিয়া বিতর্কমুক্ত রাখাও জরুরি।
আনোয়ারের মতে, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি, রিঙ্গিতের শক্তিশালী অবস্থান, বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকায় সরকার প্রতিরক্ষা খাতে আরও বেশি বিনিয়োগের কথা ভাবতে পারছে।
আগামী ৯ অক্টোবর দেশটির পার্লামেন্টে ২০২৭ সালের জাতীয় বাজেট উপস্থাপনের কথা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর পরিবার কল্যাণ সমিতির জন্য এক লাখ ৪৭ হাজার রিঙ্গিত এবং মালাক্কার তেরেনদাক, সুংগাই উদাং, মাসজিদ তানাহ ও বুকিত বেরুয়াং সেনা শিবিরের মসজিদ ও নামাজের স্থান সংস্কারের জন্য ১০ লাখ রিঙ্গিত অনুদানের ঘোষণাও দেন।