ঢাকা, ২০ জুলাই:
রাজপথে চলমান দুর্বার আন্দোলন দমন করতে হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে র্যাবের বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশেই আকাশপথ থেকে গুলি চালানো হয়, যার ফলে প্রাণ হারান অনেক বিক্ষোভকারী, আহত হন অসংখ্য মানুষ। যদিও র্যাব বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিওতে একজন অজ্ঞাত উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথোপকথনে শোনা যায়। সেখানে বলা হয়:
“গ্যাদারিং দেখবে যেখানে, সেখানে উপর থেকে… আপনার নির্দেশনা লাগবে।”
প্রধানমন্ত্রীর উত্তর: “আমার নির্দেশনা দেয়া আছে… অলরেডি শুরু হয়ে গেছে। এখন লেথাল উইপেন ব্যবহার করবে, যেখানে পাবে সেখানে গুলি করবে।”
১৯ জুলাই রাজধানীর মিরপুর, যাত্রাবাড়ী, বাড্ডা, উত্তরা, রামপুরা ও মোহাম্মদপুর এলাকায় হেলিকপ্টারে টহল দেয় র্যাব। মোহাম্মদপুরে একটি মিছিলে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায় মাদরাসা ছাত্র জুবাইদ হোসেন ইমন।
তার মা বলেন, “ওই সময় হেলিকপ্টারটা আমাদের মাথার ওপরে ছিল। আমার ছেলেটা স্লোগান দিচ্ছিল। তখনই ওপর থেকে গুলি এসে মাথা ভেদ করে মুখ দিয়ে বেরিয়ে যায়।”
ইমনের পরিবার জানায়, ছেলেকে কোরআনের হাফেজ বানানোর স্বপ্ন নিয়ে ঢাকায় এসেছিলেন তারা। কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে রক্তাক্ত জুলাইয়ের এক বিক্ষোভ দিনে। এখন গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জে ইমনের কবরই একমাত্র সান্ত্বনা হয়ে দাঁড়িয়েছে পরিবারটির কাছে।
এদিকে, র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী দাবি করেছেন, বাহিনীটি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি মানবাধিকার সংবেদনশীল এবং আইনের আওতায় থেকেই কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
তিনি বলেন, “৫ আগস্টের পর র্যাবে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। আমরা এখন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি, র্যাব আইনি কাঠামোর মধ্যেই কাজ করছে।”
তবে, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল-আজাদ চৌধুরী মনে করেন, “র্যাব রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে। তাই এই বাহিনীকে একটি স্বাধীন কমিশনের অধীনে এনে পরিচালনা করা উচিত।”
তিনি আরও বলেন, “আন্তর্জাতিকভাবে র্যাবের ভাবমূর্তি সংকটে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা তারই প্রমাণ। এখন সময় এসেছে বাহিনীটিকে জনকল্যাণমূলক ও স্বচ্ছভাবে পরিচালনার।”
জুলাইয়ের এই ঘটনা দেশের রাজনীতিতে এবং মানবাধিকার পরিস্থিতিতে এক গভীর রেখাপাত করেছে। আগামী দিনে এসব অভিযোগের বিচার ও তদন্ত কিভাবে হবে, সেদিকে তাকিয়ে রয়েছে দেশবাসী ও আন্তর্জাতিক মহল।