বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ ভারতে চলছে লোকসভা নির্বাচন। নির্বাচন চলাকালে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র করছে বলে অভিযোগ করেছে আরেক পরাশক্তি রাশিয়া।
মার্কিন ফেডারেল কমিশনের রিপোর্টে ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ভারতের সমালোচনা করার পর ওয়াশিংটেনের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করে মস্কো। মস্কোর এমন দাবির পর ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গণে তোলপাড় চলছে।
মার্কিন অভিযোগকে দেশ ও রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের প্রতি ‘অসম্মানজনক’বলে অভিহিত করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা।

মিডিয়া ব্রিফিংয়ে জাখারোভা বলেন, ভারতের জাতীয় মানসিকতা, ইতিহাস সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের উপরব্ধি ও বোঝার ঘাটতি রয়েছে। ভারতীয়দের ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়ে আমেরিকা ‘ভিত্তিহীন অভিযোগ’ করে চলেছে।
মার্কিন ফেডারেল কমিশনের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে, আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা ও কয়েকটি বিষয় লঙ্ঘনের অভিযোগে ভারতের সমালোচনা করেছে। এটি “ধর্ম বা বিশ্বাসের স্বাধীনতার অধিকারের, বিশেষ করে গুরুতর লঙ্ঘণে জড়িত। এজন্য ভারতসহ ১৬ টি দেশকে “বিশেষ উদ্বেগের দেশ” হিসাবে মনোনীত করার আহ্বান জানানো হয়েছে প্রতিবেদনে।
তবে ওয়াশিংটনের প্রতিবেদনটিকে “পক্ষপাতদুষ্ট” বলে অভিহিত করেছে নয়াদিল্লি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল কড়া প্রতিক্রিয়ায় জানান, মার্কিন ফেডারেল কমিশন বার্ষিক প্রতিবেদনের অংশ হিসাবে “ভারত-বিরোধী প্রচারণা প্রকাশ” অব্যাহত রেখেছে, যা খুবই নিন্দনীয় বলে মনে করে ভারত।

এদিকে ভারতের নির্বাচনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপের যে অভিযোগ মস্কো করেছে তা উড়িয়ে দিয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথু মিলার প্রেস কনফারেন্সে বলেন, ভারতীয় নির্বাচনে কোনো হস্তক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র করছে না। এটি ভারতের জনগণের সিদ্ধান্ত। এমনকি পৃথিবীর কোনো নির্বাচনেই যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করে না বলেও জানান মিলার।