রাজনৈতিক সমীকরণ ও জোটের পরিবর্তনের কারণে নেগেরি সেম্বিলানের ১৬তম রাজ্য নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। বিশেষ করে পাকাতান হারাপানকে (পিএইচ) চ্যালেঞ্জ জানাতে বারিসান ন্যাশনাল (বিএন) ও পেরিকাতান ন্যাশনালের (পিএন) মধ্যে সহযোগিতা এবারের নির্বাচনী পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ইউনিভার্সিটি পেন্ডিডিকান সুলতান ইদ্রিসের (ইউপিএসআই) মানববিজ্ঞান অনুষদের মালয়েশিয়ান স্টাডিজ বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক ড. নরহাফিজা মোহদ হেড বলেন, আগের রাজ্য নির্বাচনগুলোর তুলনায় এবারের পরিস্থিতি বেশ আলাদা। বিভিন্ন আসনে দুই, তিন এমনকি পাঁচ প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং মিশ্র ও মালয়-অধ্যুষিত এলাকার ভোটারদের বৈশিষ্ট্য নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
আজ বারনামা টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে জয়ের ব্যবধান খুবই কম হতে পারে। আসনভিত্তিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার ধরনও একেক জায়গায় একেক রকম হওয়ায় ফলাফল অনুমান করা কঠিন।
নরহাফিজার মতে, পাকাতান হারাপানের তুলনামূলক কম প্রচারণা চালানোর কৌশল রাজনৈতিক চাপ কমানোর একটি পরিকল্পনা হতে পারে। তবে নির্বাচনী প্রচারণায় উত্থাপিত বিভিন্ন ইস্যু ভোটারদের মনোভাব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো নির্বাচনী ইস্যু জোরালোভাবে আলোচিত হলে তা দ্রুত জনআলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। বিশেষ করে জেনারেশন জেডসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থাকায় এসব প্ল্যাটফর্মে আলোচিত বিষয়গুলো ভোটারদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে, ইউনিভার্সিটি তেকনোলজি মারা (ইউআইটিএম)-এর প্রশাসনিক বিজ্ঞান ও নীতিমালা অনুষদের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক ড. মুহাম্মাদ ফুয়াদ আবদুল করিম বলেন, বারিসান ন্যাশনাল ও পেরিকাতান ন্যাশনালের সহযোগিতা আদর্শগত মিলের চেয়ে নির্বাচনী কৌশল ও রাজনৈতিক স্বার্থের ভিত্তিতেই বেশি গড়ে উঠেছে বলে মনে হচ্ছে।
তিনি রাজনীতির জোটকে বাজারের গতিশীলতার সঙ্গে তুলনা করে বলেন, ভোটারদের চাহিদা অনুযায়ী রাজনৈতিক দলগুলোও নিজেদের কৌশল পরিবর্তন করে। তাই রাজনীতিতে অনেক সময় আদর্শের চেয়ে কৌশলই বেশি গুরুত্ব পায় এবং সময়ের সঙ্গে রাজনৈতিক সমীকরণও বদলে যায়।
নেগেরি সেম্বিলানে নেতৃত্ব ও প্রার্থীদের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার প্রসঙ্গে মুহাম্মাদ ফুয়াদ বলেন, সেখানকার ভোটাররা ব্যক্তিগত প্রার্থীর চেয়ে দলের পরিচয়কে বেশি গুরুত্ব দেন বলে মনে হয়।
তার ভাষায়, নেগেরি সেম্বিলানে কে মুখ্যমন্ত্রী হবেন এটি ভোটারদের কাছে খুব বড় বিষয় নয়। সেখানে রাজনীতি মূলত ব্যক্তির কর্মদক্ষতার চেয়ে রাজনৈতিক পরিচয়নির্ভর। এ দিক থেকে জোহরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভিন্ন, যেখানে প্রার্থীদের কর্মদক্ষতা ও পারফরম্যান্স বেশি গুরুত্ব পায়।
তিনি আরও বলেন, কোনো দলের নির্বাচনী ইশতেহার বা প্রতিশ্রুতি কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে জনগণের সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান দেওয়ার সক্ষমতার ওপর। বিশেষ করে তরুণদের জন্য মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে দলগুলোর বাস্তব পরিকল্পনা ভোটারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
নেগেরি সেম্বিলান রাজ্য নির্বাচনে মোট ৮ লাখ ৮৯ হাজার ৪৯০ জন ভোটার ভোট দেওয়ার যোগ্য। এর মধ্যে সাধারণ ভোটার ৮ লাখ ৬৭ হাজার ১৫১ জন, সামরিক সদস্য ও তাঁদের স্বামী বা স্ত্রী ১৬ হাজার ৮৮৪ জন এবং পুলিশ সদস্য ৫ হাজার ৪৫৫ জন।