শিরোনাম :
কেদাহতে চালচাষীদের সার সরবরাহে বিলম্ব: এমএসিসির তদন্ত শুরু জাকার্তায় আটকে পড়া মালয়েশিয়ানদের পাশে এক ইন্দোনেশীয় নারী নেপালে পৌঁছেছে মালয়েশিয়ার বিশেষ উদ্ধারকারী দল ‘স্মার্ট’ দুর্নীতির তদন্ত প্রতিহিংসা বা ঈর্ষা থেকে নয়: আনোয়ার ইব্রাহিম সাহিত্য-সংস্কৃতিতে ব্রুনাই-মালয়েশিয়ার সম্পর্ক জোরদারে সংলাপ ভুয়া পুলিশ সেজে ফোন স্ক্যাম, ইপোর এক বৃদ্ধ খোয়ালেন ১৯ লাখ রিঙ্গিত কৃষকদের সুবিধার্থে ব্যর্থ চুক্তি বাতিলের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যার প্রতিবাদে কুয়ালালামপুরে মালয়েশীয়দের বিক্ষোভ মাহা ২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম থাইল্যান্ডের উপপ্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফর, গুরুত্ব পাবে সীমান্ত নিরাপত্তা ও যোগাযোগ

গর্ভপাত (মিসক্যারেজ) প্রতিরোধে করণীয়: চিকিৎসক ও বিজ্ঞানের পরামর্শে সুস্থ মাতৃত্বের দিকনির্দেশনা

পিবিএন টিভি ২৪ রিপোর্ট:
  • সর্বশেষ আপডেট: রবিবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৫

গর্ভধারণের পর অনেক নারীই নানা জটিলতায় পড়েন, যার মধ্যে অন্যতম হলো মিসক্যারেজ বা গর্ভপাত। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় গর্ভধারণের প্রথম ২০ সপ্তাহের মধ্যে ভ্রূণ নষ্ট হয়ে গেলে তাকে মিসক্যারেজ বলা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ১০ জন গর্ভবতী নারীর মধ্যে প্রায় ১ জন এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হন। তবে সচেতনতা ও যত্ন নিলে অনেক ক্ষেত্রেই এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব।

মিসক্যারেজের সাধারণ কারণসমূহ

চিকিৎসকদের মতে, গর্ভপাতের পেছনে কয়েকটি শারীরবৃত্তীয় ও জীবনধারাজনিত কারণ কাজ করে, যেমন—

  • ক্রোমোজোমের ত্রুটি বা ভ্রূণের জেনেটিক সমস্যা
  • অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও উদ্বেগ
  • হরমোনের ভারসাম্যহীনতা
  • অতিরিক্ত ওজন বা অপুষ্টি
  • ধূমপান, অ্যালকোহল বা ক্যাফেইনের অতিরিক্ত গ্রহণ
  • সংক্রমণ, জ্বর বা জরায়ুর গঠনজনিত ত্রুটি
  • উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগ

প্রতিরোধে করণীয়

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো মেনে চললে মিসক্যারেজের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব—

  1. প্রি-প্রেগন্যান্সি চেকআপ করুন
    গর্ভধারণের আগে রক্ত, ডায়াবেটিস, থাইরয়েড ও সংক্রমণ পরীক্ষা করানো জরুরি।
  2. সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন
    ফল, সবজি, প্রোটিন, দুধ ও ফলিক অ্যাসিডসমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত গ্রহণ করুন।
    চিকিৎসকরা গর্ভাবস্থার শুরু থেকেই ফলিক অ্যাসিড ও আয়রন সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার পরামর্শ দেন।
  3. ধূমপান ও মাদক সম্পূর্ণভাবে পরিহার করুন
    এটি ভ্রূণের অক্সিজেন সরবরাহ কমিয়ে গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়ায়।
  4. মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করুন
    পর্যাপ্ত বিশ্রাম, মেডিটেশন ও পরিবারের সহযোগিতা মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে।
  5.  হালকা ব্যায়াম করুন
    চিকিৎসকের পরামর্শে হালকা ব্যায়াম রক্তসঞ্চালন বাড়ায় এবং শরীরকে সক্রিয় রাখে।
  6. পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম নিন
    প্রতিদিন অন্তত ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম শরীরের হরমোন ভারসাম্য ঠিক রাখে।
  7.  সংক্রমণ প্রতিরোধে সচেতন থাকুন
    টিকাগুলো সময়মতো নেওয়া ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে

নিম্নলিখিত উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে—

  • পেট ব্যথা বা তলপেটে চাপ অনুভব
  • রক্তপাত বা বাদামী রঙের স্রাব
  • অতিরিক্ত দুর্বলতা বা মাথা ঘোরা

গর্ভাবস্থা একটি সংবেদনশীল সময়, তাই প্রতিটি মুহূর্তে সতর্ক থাকা দরকার। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, মানসিক প্রশান্তি এবং নিয়মিত চিকিৎসা পরামর্শ—এই তিনটি বিষয়ই মিসক্যারেজ প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

“একটি সুস্থ গর্ভধারণই একটি সুস্থ জাতির ভিত্তি।” — চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা

আরো পড়ুন

© All rights reserved © pbntv24
Developer Vom Tech
Translate »