‘জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরীয়সী’—মা ও মাতৃভূমি স্বর্গের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। পৃথিবীর যেখানেই যত সুন্দর জায়গা থাকুক, তার তুলনা মাতৃভূমি বা স্বদেশের সঙ্গে হয় না। মায়ের মতো মাতৃভূমির গৌরব ও মর্যাদা অতুলনীয়।
অথচ এই মাতৃভূমির অধিকার আদায়ে যুগের পর যুগ লড়াই করছেন অসহায় ফিলিস্তিনিরা। দখলদার ইসরায়েলের দখলদারির বিরুদ্ধে সংগ্রামে শহিদ হয়েছেন হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নারী, শিশু ও পুরুষ। কারাভোগ করছেন আরও হাজার হাজার মানুষ। মাঝে মাঝে চুক্তির মাধ্যমে কিছু ফিলিস্তিনি মুক্তি পেলেও ইসরায়েলের নানান শর্তের বেড়াজালে নিজ দেশে ফিরতে পারেন না অনেক ফিলিস্তিনি। বহু অমানবিক নির্যাতন-নিপীড়ন সহ্য করে বহু বছর পর মুক্তি পেলেও পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে পারেন না তারা। স্বদেশ ছেড়ে দখলদার সরকারের চাওয়ায় নির্বাসিত হতে হয় ভিনদেশে।

হামাসের হাতে মুক্তিপ্রাপ্ত ইসরায়েলি জিম্মিরা মুক্তির দিনই পরিরারের সঙ্গে মিলিত হয়েছেন।
দীর্ঘ ১৫ মাসের বেশি সময় ধরে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে গত রোববার (১৯ জানুয়ারি) থেকে যুক্তরাষ্ট্র, মিসর ও কাতারের মধ্যস্থতায় ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি তিন ধাপের যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হয়।
যুদ্ধবিরতি চুক্তির ৪২ দিনের প্রথম পর্যায়ে ৩৩ জন ইসরায়েলি নারী, শিশু, পঞ্চাশোর্ধ পুরুষ এবং বিশেষভাবে অসুস্থ ব্যক্তিদের বিনিময়ে এক হাজার ৯০৪ জন ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেবে ইসরায়েল। তাদের মধ্যে ৭৩৭ জন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন। ইতিমধ্যে সাতজন ইসরায়েলি জিম্মির মুক্তির বিনিময়ে ২৯০ জন ফিলিস্তিনি বন্দি মুক্তি পেয়েছেন। তাদের মধ্যে ১২১ জন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ব্যক্তি ছিলেন।
হামাসের হাতে মুক্তিপ্রাপ্ত ইসরায়েলি জিম্মিরা মুক্তির দিনই ইসরায়েলে ফিরেছেন। পরিরারের সঙ্গে মিলিত হয়েছেন। তাদের ঘিরে ইসরায়েল ও পশ্চিমা বিশ্বে বাধঁভাঙা উল্লাস দেখা গেছে।