মালয়েশিয়ার কেদাহর কুলিম হাই-টেক পার্কে (KHTP) অবৈধ অভিবাসীদের বিষয়ে প্রতিবেদন করতে গিয়ে এক সাংবাদিক গ্রেপ্তার হওয়ায় দেশে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সোমবার এক বিবৃতিতে মালয়েশিয়ান মিডিয়া কাউন্সিল (MMC) এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে তথ্য সংগ্রহ করা সাংবাদিকদের বৈধ দায়িত্বের অংশ।
গ্রেপ্তার হওয়া সাংবাদিক কালিদাস সুব্রামানিওম, যিনি তামিল ভাষার সংবাদমাধ্যম থিনাথান্তি-এর সঙ্গে যুক্ত। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক পাভালাসেলভান মারিমুথু জানান, সোমবার বিকেল ৩টার দিকে কুলিম জেলা পুলিশ তাকে আটক করে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৬ মার্চ কালিদাস সাতজনের একটি দলের সঙ্গে KHTP এলাকায় যান। ওই দলে সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী এবং এনজিও প্রতিনিধিরা ছিলেন। তারা সেখানে ৩০০-এর বেশি অবৈধ অভিবাসী কাজ করার অভিযোগ যাচাই করতে গিয়েছিলেন।
“আমরা কোনো ব্লগ না, আমরা তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধিত একটি গণমাধ্যম এবং আমাদের বৈধ মিডিয়া কার্ড রয়েছে। এই গ্রেপ্তার আমাদের জন্য অত্যন্ত বিস্ময়কর,” বলেন পাভালাসেলভান।
তিনি আরও জানান, প্রথমে পুলিশ কালিদাসকে ‘অনধিকার প্রবেশ’ (trespassing) অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকে। তবে থানায় হাজির হওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় MMC জোর দিয়ে বলেছে, সাংবাদিকতার কাজের ক্ষেত্রে ‘অনধিকার প্রবেশ’-এর ব্যাখ্যা স্পষ্ট করা জরুরি, যাতে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালন অপরাধ হিসেবে বিবেচিত না হয়।
সংস্থাটি আরও আহ্বান জানায়, তদন্ত যেন স্বচ্ছ ও পেশাদারভাবে পরিচালিত হয় এবং সাংবাদিকরা যাতে কোনো ধরনের চাপ বা বাধা ছাড়াই কাজ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।
অন্যদিকে, মালয়েশিয়ান তামিল প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস. মুথামিজ মানানও এই গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বিষয়টি যোগাযোগমন্ত্রী ফাহমি ফাজিলের কাছে উত্থাপন করেছেন।
জানা গেছে, মন্ত্রী ফাহমি ফাজিল বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।
ঘটনাটি মালয়েশিয়ায় সাংবাদিকদের কাজের স্বাধীনতা ও আইন প্রয়োগের সীমারেখা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।