রেজুয়ানা বিনতে রেজা | PBN News 24 | কুয়ালালামপুর | শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫:
শরীর সুস্থ রাখার মতোই মনকে সুস্থ রাখা সমান গুরুত্বপূর্ণ। মানসিকভাবে অস্থিরতা, উদ্বেগ, হতাশা বা অতিরিক্ত চাপ শুধু আমাদের অনুভূতিতেই নয়, বরং শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা, ঘুমের মান, এমনকি হৃদ্রোগের ঝুঁকিতেও সরাসরি প্রভাব ফেলে— বলছে বিজ্ঞান।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মতে, মানসিক স্বাস্থ্য মানে শুধু মানসিক রোগের অনুপস্থিতি নয়, বরং এমন এক অবস্থা যেখানে ব্যক্তি তার সম্ভাবনাগুলোকে কাজে লাগাতে পারে, প্রাত্যহিক জীবনের স্বাভাবিক চাপ সামলাতে সক্ষম হয় এবং সামাজিক জীবনেও ফলপ্রসূ অবদান রাখতে পারে।
মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্বের পেছনে বিজ্ঞান যা বলে
মস্তিষ্কের রাসায়নিক ভারসাম্য রক্ষা করে
নিউরোসায়েন্স গবেষণায় দেখা গেছে, মানসিক চাপ বা উদ্বেগের কারণে শরীরে কর্টিসল (Cortisol) ও অ্যাড্রেনালিন (Adrenaline) হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। এসব হরমোন দীর্ঘমেয়াদে স্মৃতিশক্তি দুর্বল করে এবং মনোযোগ কমিয়ে দেয়।
রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের গবেষণায় বলা হয়েছে, মানসিকভাবে প্রশান্ত থাকা মানুষদের ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী থাকে। অন্যদিকে, ক্রনিক স্ট্রেস শরীরে প্রদাহ বাড়ায় এবং সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়।
হৃদ্রোগ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়
আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের গবেষণা অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ রক্তচাপ ও রক্তের গ্লুকোজ লেভেল বাড়ায়। তাই মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকলে হৃদ্রোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও টাইপ–২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে যায়।
ঘুমের মান উন্নত করে
মানসিক প্রশান্তি মেলাটোনিন হরমোনের উৎপাদন নিয়ন্ত্রণে রাখে, যা ভালো ঘুমের জন্য অপরিহার্য। নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম আবার মানসিক স্থিতি বজায় রাখতে সহায়তা করে— একটি পরস্পরনির্ভর সম্পর্ক।
সম্পর্ক ও কর্মক্ষমতা উন্নত করে
মানসিকভাবে সুস্থ ব্যক্তি সহজে রাগ, হতাশা বা ঈর্ষা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এর ফলে পারিবারিক সম্পর্ক, কর্মস্থলের পারফরম্যান্স ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতা উন্নত হয়।
মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় করণীয়
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, পরিবার ও বন্ধুর সঙ্গে সময় কাটানো, ধ্যান (Meditation) এবং নিয়মিত আত্ম-অনুসন্ধান (Self-reflection) মানসিক সুস্থতা রক্ষায় কার্যকর।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন,
“মানসিক চাপ, ঘুমের সমস্যা বা অবিরাম হতাশা কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হলে তা অবহেলা করা বিপজ্জনক। এ অবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।”