মালয়েশিয়ায় ক্রমবর্ধমান ভর্তুকির ব্যয়ের মধ্যে সরকারি অর্থ ব্যয়ে আরও শৃঙ্খলা আনার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। তিনি বলেছেন, যেকোনো সমস্যার সমাধানে শুধু বরাদ্দ বাড়িয়ে যাওয়ার নীতি দীর্ঘ মেয়াদে টেকসই নয়।
আজ মঙ্গলবার পুত্রজায়ায় প্ল্যান্টেশন ও কমোডিটিজ মন্ত্রণালয়ের মাসিক সমাবেশে বক্তব্য দেন আনোয়ার ইব্রাহিম। এ সময় তিনি বলেন, উচ্চ ভর্তুকি ব্যয়ের কারণে সরকারকে সরকারি অর্থ ব্যবহারে আরও সতর্ক ও শৃঙ্খলাবদ্ধ হতে হবে।
আনোয়ার বলেন, সরকার ইতিমধ্যে প্রায় ৪০ বিলিয়ন রিঙ্গিত ভর্তুকি দিয়েছে। এত বড় অঙ্কের ব্যয়ের পরও যদি প্রতিটি সমস্যার সমাধানে শুধু নতুন বরাদ্দ বাড়ানো হয়, তাহলে এই ধারা কত দিন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি ব্যয় বাড়ানোর পাশাপাশি সেই অর্থ জনগণের জন্য বাস্তব ও পরিমাপযোগ্য ফল বয়ে আনছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। শুধু বছর বছর বাজেটের বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না; জনগণের জীবনে তার কার্যকর প্রভাব থাকতে হবে।
মালয়েশিয়ায় পেট্রল ও ডিজেল ভর্তুকির ব্যয় বর্তমানে সরকারের ওপর বড় আর্থিক চাপ তৈরি করেছে। তবে ব্যয় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি জনগণের কল্যাণেও সহায়তা অব্যাহত রাখছে সরকার। সম্প্রতি সরকারের আরওএন৯৫ কর্মসূচির আওতায় মাসিক জ্বালানি সুবিধার সীমা ২০০ লিটার থেকে বাড়িয়ে ৩০০ লিটার করা হয়েছে। এতে ১ কোটি ৬০ লাখের বেশি ব্যবহারকারী উপকৃত হবেন।
আনোয়ার আরও স্বীকার করেন, জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে এখনো অনেক মালয়েশীয় সমস্যায় রয়েছেন। গত মাসে সরকার ছয়টি তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিলেও সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কমাতে আরও উদ্যোগ প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
২০২৭ সালের বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রেও এই বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সরকার একদিকে লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা অব্যাহত রাখতে চায়, অন্যদিকে দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতাও ধরে রাখতে চায়।