জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে তৈরি পণ্য আমদানি বন্ধে নেওয়া পদক্ষেপের স্বীকৃতি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কে তুলনামূলক কম হারের সুবিধা পেয়েছে মালয়েশিয়া। দেশটির ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ‘অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা’ (এক্সেস ক্যাপাসিটি) নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পৃথক একটি তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে।
মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় (মিতি) আজ শুক্রবার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য আইনের ১৯৭৪ সালের ৩০১ ধারার আওতায় জোরপূর্বক শ্রমসংক্রান্ত বিস্তৃত তদন্তের পর ১৭টি অর্থনীতিকে ১০ শতাংশ শুল্কের আওতায় রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, তদন্তের আওতায় থাকা অন্যান্য অর্থনীতির ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
মিতি বলেছে, জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানি নিষিদ্ধে আইন বাস্তবায়ন ও কার্যকর করার বিষয়ে মালয়েশিয়ার প্রতিশ্রুতিকে স্বীকৃতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর)। এ কারণেই দেশটি তুলনামূলক কম শুল্কের সুবিধা পেয়েছে।
নতুন শুল্ক ২৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে কার্যকর হয়েছে। এর ঠিক আগে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য আইনের ১২২ ধারায় আরোপ করা সাময়িক শুল্কের মেয়াদ শেষ হয়।
বিশ্বের ৬০টি অর্থনীতিকে লক্ষ্য করে নেওয়া এই পদক্ষেপের অংশ হিসেবে নতুন শুল্ক আরোপ করেছে ইউএসটিআর। সংস্থাটির বাণিজ্য প্রতিনিধি অ্যাম্বাসেডর জামিসন গ্রিয়ার বলেন, দুই দফা গণশুনানি এবং ২ হাজার ১০০টির বেশি মতামত পর্যালোচনাসহ ব্যাপক তদন্তের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গ্রিয়ার বলেন, বৈশ্বিক শ্রমিকদের কল্যাণ উন্নত করা এবং বাণিজ্যকে বিকৃত করে এমন চর্চা সংশোধন করাই এ পদক্ষেপের লক্ষ্য। একই সঙ্গে জোরপূর্বক শ্রম নিষিদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া দেশগুলোর প্রশংসাও করেন তিনি।
ইউএসটিআরের কাঠামো অনুযায়ী, যেসব দেশে জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার আইন রয়েছে অথবা পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির আওতায় এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তাদের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক প্রযোজ্য হবে। মালয়েশিয়া ছাড়াও আসিয়ানের সদস্যদেশগুলোর মধ্যে কম শুল্কের এই সুবিধা পেয়েছে শুধু কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়া। ফলে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়ার ওপর আরোপিত শুল্কের হার সবচেয়ে কম।
এ ছাড়া বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার জন্য শুল্কহার নির্ধারণে বিশেষ কোটা (ট্যারিফ রেট কোটা) চালুর পরিকল্পনা করেছে ইউএসটিআর। যুক্তরাষ্ট্রের উপকরণ ব্যবহারের ভিত্তিতে এই কোটা নির্ধারণ করা হবে। এর মাধ্যমে এসব দেশকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা ও বস্ত্রপণ্য আমদানিতে উৎসাহিত করা হবে, যাতে জোরপূর্বক শ্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে এমন উৎসের ওপর নির্ভরতা কমে।
তবে জোরপূর্বক শ্রম ইস্যুর বাইরে ‘অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা’ নিয়ে ৩০১ ধারায় যুক্তরাষ্ট্রের পৃথক আরেকটি তদন্ত চলছে। এই তদন্তের আওতায় থাকা ১৬টি অর্থনীতির মধ্যে মালয়েশিয়াও রয়েছে।
মিতি জানিয়েছে, এই পৃথক তদন্তের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর শুল্কহার নির্ধারণ করলে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের তা জানানো হবে।