ইসরায়েলি নাগরিকদের মালয়েশিয়ায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত ইহুদিবিদ্বেষ থেকে নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। তিনি বলেছেন, ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের নিপীড়ন ও দখলদারিত্বের প্রতিবাদেই মালয়েশিয়া এ অবস্থান নিয়েছে।
আজ শুক্রবার পোর্ট ডিকসনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ইহুদিদের অপমান করা মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্য নয়। বরং ইসরায়েলের ‘নিষ্ঠুরতা, নিপীড়ন ও দখলদারিত্বের’ বিরোধিতা করাই দেশটির অবস্থানের মূল কারণ।
আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ‘আমরা ইহুদিবিদ্বেষী নই। আমরা কোনো জাতির বিরোধিতা করছি না। আমরা একটি নিপীড়ক রাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করছি।’
মালয়েশিয়ার এই নীতির কারণে দেশটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের চাপ থাকলেও ইসরায়েলি নাগরিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার অবস্থান থেকে সরে আসবে না কুয়ালালামপুর, এমনটিই জানিয়েছেন আনোয়ার ইব্রাহিম।
তিনি বলেন, ‘এটি ইহুদিদের অপমান করার বিষয় নয়। আমরা ইসরায়েলের নিষ্ঠুরতা, নিপীড়ন ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি। বিষয়টি আমাদের পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে। তারা এমনভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করছে যেন আমরা কোনো জাতির বিরুদ্ধে। কিন্তু আমরা কোনো জাতির বিরুদ্ধে নই; আমরা একটি নিপীড়ক দেশের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে।’
পোর্ট ডিকসনে মালয়েশিয়ান সেনাবাহিনীর বেসিক ট্রেনিং সেন্টারে ‘সেমারাক কেনেগারান’ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে, ইসরায়েলি নাগরিকত্ব থাকার বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পর এক মার্কিন নাগরিককে মালয়েশিয়া ছাড়তে বলা হয়। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহামাদ হাসান জানান, মালয়েশিয়ার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই ওই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মালয়েশিয়া ইসরায়েল রাষ্ট্র বা দেশটির ইস্যু করা পাসপোর্টকে স্বীকৃতি দেয় না।
এর আগে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেছিলেন, আটজন মার্কিন কংগ্রেস সদস্য এ সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করলেও ইসরায়েলি নাগরিকদের প্রবেশ সীমিত করার নীতি থেকে মালয়েশিয়া সরে আসবে না। তাঁর মতে, ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার রক্ষা এবং নিপীড়ন, দখলদারিত্ব ও গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান হত্যাকাণ্ডের বিরোধিতা করাই মালয়েশিয়ার এই অবস্থানের ভিত্তি।