কুয়ালালামপুরের জালান আমপাং এলাকার একটি বাণিজ্যিক ভবনে অভিযান চালিয়ে ১০৯ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করেছে মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ (জেআইএম)। অভিবাসন আইন ও ভিসার শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে গতকাল বৃহস্পতিবার তাঁদের আটক করা হয়।
অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবান জানিয়েছেন, বিদেশি নাগরিকদের উপস্থিতি বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে স্থানীয়দের অভিযোগের পর প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে তথ্য সংগ্রহ ও গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হয়। এর ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে ওই বাণিজ্যিক ভবনে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে অভিবাসন বিভাগের ৫৮ জন কর্মকর্তা অংশ নেন। ভবনটির টাওয়ার-১-এর ১৮ তলা এবং টাওয়ার-৩-এর ২৪ তলায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় মোট ১২০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ ও যাচাই করা হয়। তাঁদের মধ্যে ৭ জন মালয়েশিয়ার নাগরিক এবং ১১৩ জন বিদেশি নাগরিক ছিলেন। বিদেশিদের মধ্যে চীন, বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও ভারতের নাগরিক ছিলেন।
অভিবাসন কর্মকর্তারা জানান, আটক বিদেশি নাগরিকদের কয়েকটি ইউনিটে সংস্কারকাজ করতে দেখা যায়। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, এসব জায়গায় একটি বিশেষ ধরনের বিনোদনকেন্দ্র বা ক্লাব চালুর প্রস্তুতি চলছিল। সেখানে একাধিক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং নিয়ন্ত্রিত প্রবেশপথ ছিল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এসব ব্যবস্থা সাধারণ মানুষের প্রবেশ ঠেকানো এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়ানোর জন্য ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
তদন্তে আরও জানা গেছে, আটক বিদেশি নাগরিকদের অনেকে সামাজিক ভ্রমণ ভিসা (সোশ্যাল ভিজিট পাস) নিয়ে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন। তবে তাঁরা অনুমতি ছাড়া কাজ করছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এ ছাড়া কয়েকজন নির্ধারিত সময়ের বেশি মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। কেউ কেউ বৈধ ভ্রমণ নথিও দেখাতে পারেননি।
আটক ১০৯ জনের মধ্যে ৭৮ জন চীনের নাগরিক এবং বাকি ৩১ জন বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও ভারতের নাগরিক। তাঁদের বয়স ৩০ থেকে ৪৩ বছরের মধ্যে। অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩ এবং অভিবাসন বিধিমালা ১৯৬৩-এর বিভিন্ন ধারায় তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।
আটক ব্যক্তিদের পরবর্তী তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার জন্য অভিবাসন বিভাগের আটক কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় বিদেশি কর্মীদের উপস্থিতি ও কার্যক্রম সমন্বয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে এক মালয়েশীয় নাগরিককেও আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি ভবনটির জয়েন্ট ম্যানেজমেন্ট বডির (জেএমবি) এক সুপারভাইজারকে তদন্তে সহায়তার জন্য ফরম-২৯ সাক্ষী তলব নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ জানিয়েছে, অবৈধ ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান এবং ভিসার শর্তের অপব্যবহারের ঘটনায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। অবৈধ অভিবাসীদের নিয়োগ বা আশ্রয় দেওয়ার সঙ্গে জড়িত নিয়োগকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবান বলেন, মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন যথাযথভাবে কার্যকর করা এবং আইনের প্রতি সবার সম্মতি নিশ্চিত করতে অভিযান ও নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।