কুয়ালালামপুরে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে সীমান্ত উন্নয়ন, বাণিজ্য, নিরাপত্তা, পরিবহন ও আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্পর্ক আরও গভীর করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল।
দুই দিনের সরকারি সফরে বৃহস্পতিবার মালয়েশিয়ায় পৌঁছান থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন। সফরের অংশ হিসেবে পুত্রজায়ায় প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে তাঁর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, দুই নেতা দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রশংসা করেন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে একমত হন।
যৌথ বিবৃতিতে সীমান্ত অঞ্চলের উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দুই দেশ নতুন সড়ক ও রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণ, সীমান্তবন্দর উন্নয়ন এবং পণ্য পরিবহন সহজ করতে সমন্বয় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সাদাও বুকিত কায়ু হিতাম সীমান্ত সংযোগ সড়কের উদ্বোধন, ইপোহ পাদাং বেসার হাতইয়াই ডাবল-ট্র্যাক রেল সংযোগ, পারলিস ইনল্যান্ড পোর্টের কার্যক্রম জোরদার, দ্বিতীয় সুংগাই কোলক রানতাউ পানজাং সেতু নির্মাণ এবং সীমান্ত ফেরি ও রেলসেবা পুনরায় চালুর অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়েছেন দুই প্রধানমন্ত্রী।
নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রেও দুই দেশ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আরও জোরদার এবং অনলাইন প্রতারণা, মানব পাচার, মাদক ও বন্য প্রাণী পাচারের মতো আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনে যৌথ উদ্যোগ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় বন্যা ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং দক্ষিণ থাইল্যান্ডে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করা হয়েছে।
অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে ২০২৭ সালের মধ্যে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষি সহযোগিতা বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সইকে স্বাগত জানানো হয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা, জ্বালানি, সবুজ অর্থনীতি, ডিজিটাল অর্থনীতি, উচ্চপ্রযুক্তি শিল্প ও হালাল শিল্পে অংশীদারত্ব আরও জোরদারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দুই দেশ।
এ ছাড়া পর্যটন, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং সীমান্ত পরিবহন, শ্রম, প্রতিরক্ষা, গোলক নদী ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষা–সংক্রান্ত একাধিক সমঝোতা স্মারক দ্রুত চূড়ান্ত করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। দুই প্রধানমন্ত্রী আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় করেন এবং শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে আসিয়ানের কেন্দ্রীয় ভূমিকার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।