মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে দুই দিনের সরকারি সফরে বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরে পৌঁছেছেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল।
স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ১১ মিনিটে অনুতিন ও তাঁর স্ত্রী থানানন চার্নভিরাকুলকে বহনকারী বিশেষ বিমান কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বুঙ্গা রায়া কমপ্লেক্সে অবতরণ করে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম, তাঁর স্ত্রী ড. ওয়ান আজিজাহ ওয়ান ইসমাইল এবং তথ্য ও যোগাযোগমন্ত্রী ফাহমি ফাদজিল তাঁদের স্বাগত জানান।
সফরের শুরুতে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিনকে আনুষ্ঠানিক গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। এরপর তিনি মালয়েশিয়ার মন্ত্রিসভার সদস্য ও ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিত হন। আনোয়ার ইব্রাহিম, অনুতিন ও তাঁর সফরসঙ্গীদের সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন।
এছাড়া দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে বৈঠকও করেছেন দেশ দুটির প্রধানমন্ত্রী। মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রজায়ার পারদানা পুত্রা কমপ্লেক্সে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুলের মধ্যে এ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, সীমান্ত যোগাযোগ, নিরাপত্তা, কৃষি, পর্যটন, শিক্ষা এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি আসিয়ানসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতেও মতবিনিময় করেন দুই নেতা।
বৈঠকে মালয়েশিয়ার পক্ষে উপপ্রধানমন্ত্রী ফাদিল্লাহ ইউসুফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ হাসান, পরিবহনমন্ত্রী অ্যান্থনি লোক, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তামন্ত্রী মোহাম্মদ সাবু, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুতিওন ইসমাইল, বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী জোহারি আবদুল গনি, মানবসম্পদমন্ত্রী রামানান রামাকৃষ্ণান এবং অর্থনীতিমন্ত্রী আকমাল নাসরুল্লাহ মোহদ নাসির উপস্থিত ছিলেন।
থাইল্যান্ডের প্রতিনিধিদলে ছিলেন দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পরিবহনমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, পর্যটন ও ক্রীড়ামন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী, কৃষিমন্ত্রী এবং শ্রমমন্ত্রীসহ জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তারা।
দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রী কৃষি খাতে সহযোগিতা জোরদারে একটি সমঝোতা স্মারক সই ও বিনিময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এই সমঝোতা কৃষি খাতে দুই দেশের সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আগামীকাল শুক্রবার দুই প্রধানমন্ত্রী যৌথভাবে কেদাহর বুকিত কায়ু হিতাম সীমান্ত এলাকা সফর করবেন। সেখানে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন, কাস্টমস, কোয়ারেন্টিন ও সিকিউরিটি কমপ্লেক্স এবং থাইল্যান্ডের সাদাও সিআইকিউ কমপ্লেক্সের মধ্যে সংযোগকারী নতুন সড়কের উদ্বোধন করবেন তাঁরা।
চলতি বছরের মার্চে পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি প্রধানমন্ত্রী অনুতিনের প্রথম মালয়েশিয়া সফর। সফরের মূল লক্ষ্য দুই দেশের বিদ্যমান ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানো, এমনটাই বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাণিজ্যের দিক থেকেও থাইল্যান্ড মালয়েশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। ২০২৫ সালে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১১৮ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন রিঙ্গিত। আর ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে বাণিজ্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন রিঙ্গিতে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।