প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফরের পর বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য দেশটির শ্রমবাজার আবারও উন্মুক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তাঁর দাবি, সোমবার (৭ জুলাই) থেকে মালয়েশিয়া বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ পুনরায় শুরু করেছে।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে নতুন বৈদেশিক শ্রমবাজার সৃষ্টি এবং বিদ্যমান বাজার সম্প্রসারণ করা যায়। সেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘মালয়েশিয়া ৭ জুলাই থেকে বাংলাদেশের জন্য তাদের শ্রমবাজার পুনরায় চালু করেছে। আমরা আশা করছি, ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে অন্যান্য দেশেও বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন নতুন শ্রমবাজার উন্মুক্ত হবে।’
এর এক দিন আগে, ৬ জুলাই মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় অনলাইনে কোটা আবেদন গ্রহণের নতুন নির্দেশনা জারি করে। এতে জানানো হয়, সরকার অনুমোদিত ১৫টি উৎস দেশের মধ্যে বাংলাদেশসহ ১৩টি দেশ থেকে বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ফরেইন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এফডব্লিউসিএমএস) এর মাধ্যমে সম্পূর্ণ অনলাইন পদ্ধতিতে কোটা আবেদন করতে হবে।
তবে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলছে, বাংলাদেশ থেকে পুনরায় কর্মী নিয়োগের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত থাকলেও সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া এখনো সম্পূর্ণ হয়নি।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার বিষয়টি মালয়েশিয়া সরকার পুনর্বিবেচনায় রেখেছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দুই দেশের যৌথ কার্যকরী কমিটির বৈঠকের মাধ্যমে হবে।
শ্রমবাজার-সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে সিন্ডিকেট, একচেটিয়া ব্যবসা, মানবপাচার ও অর্থপাচারের অভিযোগ রয়েছে। অতীতের এসব সমস্যা দূর না করে শ্রমবাজার পুরোপুরি স্বাভাবিক করা কঠিন হবে।
তাঁরা বলছেন, নিয়োগপত্র সত্যায়নের জটিলতা, হাইকমিশনের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ, মেডিকেল সেন্টার-সংক্রান্ত সমস্যা এবং কর্মীদের বেতন-ভাতা, আবাসন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
একই সঙ্গে শ্রমবাজার-সংশ্লিষ্ট বৈধ ব্যবসায়ীদের স্বার্থ ও বিনিয়োগের বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও ব্যয়-সাশ্রয়ী নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশের জন্য আরও টেকসই ও লাভজনক হয়ে উঠবে।