নিউইয়র্ক: সংঘাতপূর্ণ এলাকায় যৌন সহিংসতার অভিযোগে কয়েকটি ইসরাইলি সংস্থাকে কালো তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতিসংঘ। ইসরাইলি কারাগার ও সামরিক আটক কেন্দ্রে ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্যাতন, অপমানজনক আচরণ এবং যৌন সহিংসতার অভিযোগের পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
ইসরাইলের জাতিসংঘে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ড্যানি দানন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি প্রকাশ করেন। তিনি জানান, জাতিসংঘের কালো তালিকায় ইসরাইলি প্রিজন সার্ভিসসহ কয়েকটি সংস্থার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।
এই সিদ্ধান্তকে “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে আখ্যা দিয়ে দানন জানান, এর প্রতিবাদে ইসরাইল জাতিসংঘ মহাসচিব António Guterres-এর কার্যালয়ের সঙ্গে সহযোগিতা স্থগিত করবে।
তিনি দাবি করেন, জাতিসংঘের প্রতিবেদনে আনা অভিযোগ খণ্ডনে ইসরাইল প্রমাণ জমা দিয়েছে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মানবাধিকার সংস্থা, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এবং সাবেক বন্দিদের সাক্ষ্যে ইসরাইলি সেনা, বসতি স্থাপনকারী ও কারা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন, শারীরিক নিপীড়ন ও অপমানজনক আচরণের অভিযোগ ধারাবাহিকভাবে উঠে আসছে।
গত মার্চে জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক Francesca Albanese বলেন, ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর “নৃশংস মারধর, যৌন সহিংসতা, ধর্ষণ, অনাহার এবং মৌলিক মানবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করার” মতো ঘটনা ঘটেছে, যা তাদের শরীর ও মানসিকতায় গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে।
তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে গ্রেপ্তারের ঘটনা ব্যাপকভাবে বেড়েছে এবং এ পর্যন্ত অন্তত ১৮ হাজার ৫০০ ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়েছে, যাদের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৫০০ শিশু রয়েছে।
এদিকে, গত ১১ মে প্রকাশিত The New York Times-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, ইসরাইলি সেনা, বসতি স্থাপনকারী ও কারারক্ষীরা ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর ধর্ষণ, শিশু যৌন নির্যাতন, শারীরিক নির্যাতন এবং অপমানজনক আচরণ চালিয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তদন্ত এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আসছে।
তবে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগের অনেকটাই অস্বীকার করেছে এবং দাবি করেছে, তাদের নিরাপত্তা বাহিনী আইন মেনেই কার্যক্রম পরিচালনা করছে।