মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদ আজ ১০১ বছরে পা রেখেছেন। দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে প্রভাবশালী ও দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনকারী এই রাষ্ট্রনায়কের জন্মদিন উপলক্ষে দেশ-বিদেশ থেকে শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন বিভিন্ন স্তরের মানুষ।
১৯২৫ সালের ১০ জুলাই কেদাহ অঙ্গরাজ্যের আলোর সেতারে জন্মগ্রহণ করেন মাহাথির মোহাম্মদ। চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও পরে রাজনীতিতে যোগ দিয়ে তিনি মালয়েশিয়ার আধুনিকায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান রূপকার হিসেবে পরিচিতি পান।
১৯৮১ সালে তিনি মালয়েশিয়ার চতুর্থ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। এরপর টানা ২২ বছর, ২০০৩ সাল পর্যন্ত দেশ পরিচালনা করেন। তাঁর নেতৃত্বে মালয়েশিয়া দ্রুত শিল্পায়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে যায়।
তাঁর শাসনামলে নির্মিত হয় পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার, প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রজায়া, কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (কেএলআইএ), নর্থ-সাউথ এক্সপ্রেসওয়ে এবং মাল্টিমিডিয়া সুপার করিডর (এমএসসি)। পাশাপাশি তাঁর প্রবর্তিত ‘ভিশন ২০২০’ মালয়েশিয়ার দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।
২০১৮ সালে ৯২ বছর বয়সে আবারও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসেন মাহাথির। সে সময় তিনি বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারপ্রধান হিসেবে ইতিহাস গড়েন। তাঁর প্রত্যাবর্তন মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অর্থনীতি, শিক্ষা, প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে দৃঢ় অবস্থানের জন্য পরিচিত ছিলেন মাহাথির মোহাম্মদ। ক্ষমতায় না থাকলেও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে মতামত দিয়ে তিনি এখনো জনপরিসরে সক্রিয়।
রাজনৈতিক জীবন নিয়ে নানা বিতর্ক ও মতভেদ থাকলেও মালয়েশিয়ার আধুনিক রাষ্ট্র গঠনে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা। এ কারণেই তাঁকে অনেকেই ‘আধুনিক মালয়েশিয়ার রূপকার’ হিসেবে অভিহিত করেন।
১০১তম জন্মদিনে মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক নেতা, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং সাধারণ নাগরিকেরা তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন। জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমও। এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের জীবনে মাহাথির মোহাম্মদ শুধু একজন রাজনীতিক নন, তিনি মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রগঠন ও উন্নয়নের ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়।