দীর্ঘ প্রায় দুই বছর দেশের বাইরে থাকা বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব ধরনের রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, ষড়যন্ত্র এবং আইনি বাধা উপেক্ষা করে চলতি বছরের মধ্যেই দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে অনুপস্থিতিতে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়কে তিনি ‘অবৈধ, অসাংবিধানিক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে মন্তব্য করেছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক ইমেইল সাক্ষাৎকারে নিজের দেশে ফেরা ছাড়াও বাংলাদেশে তার দল আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা, নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি। রোববার ‘এক্সক্লুসিভ’ আখ্যা দিয়ে তার দীর্ঘ সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যমটি।
এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, দেশে ফিরতে কোনো বাধাই তাঁকে থামাতে পারবে না। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের মুখে সরকার পতনের পর তিনি ভারতে চলে যান।
মৃত্যুদণ্ডের রায় থাকা সত্ত্বেও দেশে ফিরবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, সব বাধা ও ষড়যন্ত্র অতিক্রম করে আমি এ বছরই আমার দেশে ফিরব।’ দেশে ফেরার বিষয়ে নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করে এটিই তাঁর প্রথম প্রকাশ্য বক্তব্য।
গত বছরের নভেম্বরে ঢাকার একটি আদালত ২০২৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় হত্যা উসকে দেওয়া, হত্যার নির্দেশ দেওয়া এবং সহিংসতা প্রতিরোধে ব্যর্থতার অভিযোগে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
ওই রায় প্রত্যাখ্যান করে শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন, বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রতিশোধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং এর লক্ষ্য আওয়ামী লীগের নেতৃত্বকে দুর্বল করা।
তিনি মৃত্যুকে ভয় পান না জানিয়ে বলেন, অতীতেও তাঁর দলকে দুর্বল করার চেষ্টা হয়েছে, তবে সেগুলো সফল হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
নির্বাসিত জীবনে থাকা শেখ হাসিনা স্পষ্ট করেছেন, দেশে ফেরা তার ব্যক্তিগত কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষা নয়। বরং রাজনৈতিক অধিকার, গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তিনি ফিরতে চান।
আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞার বিষয়েও কথা বলেন তিনি। তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগ কোনো কাগুজে সংগঠন নয়; এটি দেশের মাটি, জনগণ ও ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত একটি রাজনৈতিক শক্তি।
একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের প্রতি রাজনৈতিক পরিবেশ স্বাভাবিক করার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা। তিনি দলের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা মামলা’ প্রত্যাহার, রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কার্যক্রমের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানান।