মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী নিয়োগ ব্যবস্থায় ইউনিভার্সাল রিক্রুটমেন্ট অ্যাডভান্সড প্ল্যাটফর্ম (তুরাপ) পুনরায় চালুর সরকারি উদ্যোগ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। একাধিক পক্ষ সতর্ক করে বলেছে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে এই উদ্যোগ দেশটির বিদেশি কর্মী নিয়োগ ব্যবস্থায় আরেকটি বেসরকারি একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে।
সোমবার দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো প্রশ্ন তোলে, মন্ত্রিসভা আদৌ তুরাপ অনুমোদন দিয়েছে কি না এবং কেন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বেস্টিনেটকে আবারও বিদেশি কর্মী নিয়োগ ব্যবস্থার কেন্দ্রীয় ভূমিকায় আনা হচ্ছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, তুরাপ কেবল একটি প্ল্যাটফর্ম নয়; এটি কর্মী নিয়োগ, নিয়োগকর্তার সঙ্গে সংযুক্তকরণ, অভিবাসন প্রক্রিয়া, শ্রমিকদের চলাচল, নিয়োগ ব্যয়, শ্রম অধিকার এবং সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করবে।
যদিও প্ল্যাটফর্মটির লক্ষ্য মধ্যস্বত্বভোগী কমানো, নিয়োগকর্তার সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তৈরি এবং ব্যয় কমানো। তবুও প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান একাই কাঙ্ক্ষিত সংস্কার নিশ্চিত করতে পারে না বলে মন্তব্য করা হয়েছে বিবৃতিতে।
তাদের ভাষ্য, স্বচ্ছতা, কার্যকর নজরদারি ও জবাবদিহি ছাড়া পুরোনো শোষণ ব্যবস্থাকেই আরও কেন্দ্রীভূত ও ডিজিটাল রূপ দেওয়া হতে পারে।
বিবৃতিতে আগের ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এফডব্লিউসিএমএস)–এর বিষয়ও তুলে ধরা হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির প্রতিবেদনে দেখা গেছে—সরকার ও বেস্টিনেটের মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি ছাড়াই ছয় বছরের বেশি সময় ধরে এই ব্যবস্থা পরিচালিত হয়েছে।
এ ছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের সুপার অ্যাডমিন অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রণে না থাকা এবং অননুমোদিত ব্যবহারকারীদের মাধ্যমে নিয়োগকর্তার আবেদন অনুমোদনের মতো দুর্বলতাও চিহ্নিত হয়েছিল। ২০২২ সালের অডিটর জেনারেলের প্রতিবেদনে এফডব্লিউসিএমএস ব্যবস্থাপনাকে অসন্তোষজনক বলা হয়।
এসব পর্যবেক্ষণের পরও সরকার ২০২৪ সালের জুন থেকে ২০৩১ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বেস্টিনেটের সঙ্গে নতুন চুক্তি করে এবং প্রতি কর্মীর সেবা ফি ১০০ রিঙ্গিত থেকে বাড়িয়ে ২১৫ রিঙ্গিত নির্ধারণ করে।
এ অবস্থায় একই প্রতিষ্ঠানের হাতে আবারও বিদেশি কর্মী নিয়োগ ব্যবস্থার বড় অংশ তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।
তাদের অভিযোগ, তুরাপ যদি উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়া সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে দেওয়া হয়, তাহলে তা জনস্বার্থ ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন তুলবে। কারণ এই প্ল্যাটফর্মের আওতায় লাখো অভিবাসী শ্রমিকের তথ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বড় অঙ্কের আর্থিক প্রবাহ জড়িত।
বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, বেস্টিনেটের প্রস্তাবিত মডেলে ১২ বছরের কনসেশন, প্রতিটি বিদেশি কর্মীর আবেদনে প্রায় এক হাজার মার্কিন ডলার (প্রায় ৩ হাজার ৯৫০ রিঙ্গিত) এবং অতিরিক্ত এক মাসের সমপরিমাণ বেতন ফি নেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। যদিও এসব শর্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
তবে সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, সংস্কারের নামে একাধিক মধ্যস্বত্বভোগী বাদ দিয়ে শেষ পর্যন্ত পুরো ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ একটি শক্তিশালী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে চলে যেতে পারে।
তারা সরকারের কাছে তুরাপের অনুমোদন, তথ্যের মালিকানা, আর্থিক কাঠামো, কর্মীদের সুরক্ষা এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দাবি করেছে।