শিরোনাম :
গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যার প্রতিবাদে কুয়ালালামপুরে মালয়েশীয়দের বিক্ষোভ মাহা ২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম থাইল্যান্ডের উপপ্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফর, গুরুত্ব পাবে সীমান্ত নিরাপত্তা ও যোগাযোগ কাম্পার ও কুয়ালা কাংসারে পৃথক ক্যাবল চুরির মামলায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ এয়ার ইটাম সশস্ত্র সংঘর্ষ: পেনাং এবং সেলাঙ্গরে অভিযানের পর গ্রেপ্তার আরও ১০ ACC to seek UAE data on Dubai assets of 73 Bangladeshis ইন্দোনেশিয়ায় মালয়েশীয় সহকারী পাইলট গ্রেফতার: দেশজুড়ে অভিযানে ৬ সহযোগী আটক মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের ৯৯% কেবিন ক্রু মাদকমুক্ত: পরীক্ষা সম্পন্ন মালয়েশিয়ায় বিমানবন্দর নিরাপত্তায় বড় উদ্যোগ, নতুন নিয়মে কড়াকড়ি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মালয়েশিয়ার রাজার সাক্ষাৎ

যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতে জরুরি মেরামতে সরকার, বললেন প্রতিমন্ত্রী হাবিব

পিবিএন টিভি ২৪ রিপোর্ট:
  • সর্বশেষ আপডেট: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বর্ষণ ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও মহাসড়ক দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে জরুরি মেরামত কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো পরিস্থিতিতেই দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা দীর্ঘ সময় অচল থাকতে দেওয়া হবে না। মানুষের দুর্ভোগ কমানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল রাখতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কার করা হচ্ছে।

তিনি জানান, অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে বিভিন্ন এলাকায় সড়কের কার্পেটিং উঠে যাওয়া, সড়কের কিনারা ধসে পড়া এবং কালভার্ট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার ক্ষতিসহ নানা ধরনের অবকাঠামোগত সমস্যা তৈরি হয়েছে। এসব ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত, মূল্যায়ন এবং জরুরি সংস্কারকাজ শুরুর জন্য ইতোমধ্যে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিক মূল্যায়নে দেখা গেছে, শুধু চট্টগ্রাম অঞ্চলেই প্রায় ২১২ কিলোমিটার সড়ক বিভিন্ন মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশাপাশি জেলা পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ সড়কও এর আওতায় রয়েছে। কোথাও প্রবল স্রোতে সড়ক ভেঙে গেছে, আবার কোথাও দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় সড়কের বিটুমিনাস স্তর নষ্ট হয়েছে। কিছু এলাকায় সড়কের নিচের মাটি সরে যাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর, শিল্পাঞ্চল এবং রপ্তানি-আমদানি কার্যক্রমের কেন্দ্র হওয়ায় চট্টগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে ওই অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কারে বিশেষ তদারকি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

তিনি জানান, প্রথম ধাপে খাদ্য, ওষুধ, জ্বালানি, ত্রাণ ও জরুরি পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত সড়কগুলো মেরামত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে হাসপাতাল, বন্দর, শিল্পাঞ্চল, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং জেলা-উপজেলা সদরের সঙ্গে সংযোগকারী সড়কও অগ্রাধিকার পাচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, যেখানে স্থায়ী সংস্কার করতে সময় লাগবে সেখানে আপাতত অস্থায়ী মেরামতের মাধ্যমে যান চলাচল সচল রাখা হবে। বর্ষা শেষ হলে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পুনর্নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি জানান, মাঠপর্যায়ের প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও নির্মাণসামগ্রীও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, জরুরি সংস্কারকাজে প্রাথমিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ তহবিল ব্যবহার করা হচ্ছে। পূর্ণাঙ্গ ক্ষয়ক্ষতির হিসাব পাওয়ার পর প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ভবিষ্যতে উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, উঁচু সড়ক, টেকসই নির্মাণসামগ্রী এবং নদীভাঙনপ্রবণ এলাকায় অতিরিক্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করে জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, সেতু ও কালভার্টগুলোর অবস্থাও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোথাও ঝুঁকি দেখা দিলে প্রয়োজন অনুযায়ী ভারী যানবাহন চলাচলে সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারে।

তিনি বলেন, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে অগ্রাধিকারভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত অধিকাংশ সড়ক ও মহাসড়কের সংস্কার দ্রুত শেষ হবে এবং দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।

আরো পড়ুন

© All rights reserved © pbntv24
Developer Vom Tech
Translate »