শান্তি চুক্তির আশা ম্লান করে ইরানে আবারও শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভয়াবহ বিমান হামলা। ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বন্দর আব্বাস, সিরিকসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। হামলা হয়েছে বন্দরনগরী চাবাহারেও। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে উপসাগরীয় উপকূল ঘেঁষে অন্তত দুটি জায়গায় হামলার খবর পাওয়া গেছে।
এছাড়া কোনারাক ও চাবাহারের পাশে বিস্ফোরণ হয়েছে। বিস্ফোরণের পর চাবাহারের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এ ছাড়া ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বুশেহর প্রদেশেও বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে।
দক্ষিণাঞ্চলের বন্দর আব্বাসে অন্তত আটটি বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। বন্দরনগরীটিতে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে মার্কিন বাহিনী ইরানে নতুন করে হামলা শুরু করেছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতায় ইরান যেন বাধা দিতে না পারে, সেজন্য তাদের সামরিক শক্তি কমিয়ে আনাই এই হামলার লক্ষ্য।
এ অবস্থায় ইরানের পার্লামেন্টের মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ি এই হামলার কড়া জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি এক্সে লেখেন, ইরানিদের কঠিন আঘাতের জন্য প্রস্তুত থাকো।
এমনকি জবাবে দ্বিতীয় দিনের মতো কুয়েত ও বাহরাইনে হামলা চালায় ইরান। এতে চলমান যুদ্ধ থামাতে যে কূটনৈতিক উদ্যোগ চলছিল, নতুন এই পাল্টাপাল্টি হামলায় তা আরো অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। দেশ দুটিতে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। তবে কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তারা ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করছে। অন্যদিকে কাতার কিছু সময়ের জন্য উচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়।
সাম্প্রতিক এই হামলা-পাল্টা হামলার পর ১৭ জুন স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারককে স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে রূপ দেওয়ার সম্ভাবনা আরো কমে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হঠাৎ করে আবারও এমন যুদ্ধাবস্থায় শঙ্কিত জাতিসংঘ। গভীর উদ্বেগ জানিয়ে সংস্থাটি বলছে, চলমান এই সংঘাত এতোদিনের কূটনৈতিক অর্জনকে ব্যর্থ করে দেবে। যা বিশ্বের জন্য চরম বিপর্যয়।