বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর বক্তব্যে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবারও বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার আশা তৈরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসায় কর্মপ্রত্যাশী, রিক্রুটিং এজেন্সি ও প্রবাসীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার সিলেটে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফরের ইতিবাচক ফল হিসেবে ৬ জুলাই থেকে দেশটি বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার পুনরায় খুলে দিয়েছে। তিনি আরও জানান, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে ‘জিরো কস্ট’ পদ্ধতিতে কর্মী পাঠানোর কার্যক্রমও শুরু হতে পারে।
তবে মন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরও মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন শ্রমবাজার চালু হওয়া, নিয়োগ প্রক্রিয়া কিংবা আবেদনসংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা প্রকাশ করেনি। ফলে শ্রমবাজার বাস্তবে চালু হয়েছে কি না এবং হলে কীভাবে কর্মী নিয়োগ হবে এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর মিলছে না।
কুয়ালালামপুরে বসবাসরত কয়েকজন বাংলাদেশি প্রবাসী জানান, হাইকমিশনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। নতুন নিয়োগ কবে শুরু হবে, কোন খাতে কর্মী নেওয়া হবে এবং কীভাবে আবেদন করতে হবে এসব বিষয়েও এখনো স্পষ্ট ধারণা নেই।
অভিবাসন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শ্রমবাজার চালুর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত ও স্বচ্ছ যোগাযোগ জরুরি। অন্যথায় তথ্যের অস্পষ্টতার সুযোগ নিয়ে দালালচক্র সক্রিয় হয়ে কর্মপ্রত্যাশীদের আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে।
২০২৪ সালে অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়, নিয়োগে অনিয়ম ও শ্রমিক শোষণের অভিযোগের পর মালয়েশিয়া বাংলাদেশ থেকে নতুন কর্মী নিয়োগ কার্যত স্থগিত করে। এরপর দুই দেশের মধ্যে একাধিক দফায় আলোচনা হয় এবং শ্রমবাজার পুনরায় চালুর লক্ষ্যে কূটনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত থাকে।
মন্ত্রীর সাম্প্রতিক ঘোষণার পর এখন কর্মপ্রত্যাশী ও প্রবাসীদের দৃষ্টি মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের দিকে। তারা দ্রুত আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা, নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং বাস্তবায়নসংক্রান্ত নির্দেশনা প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন, যাতে বিভ্রান্তি দূর হয় এবং সম্ভাব্য নতুন শ্রমবাজার স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হয়।