মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি অভিবাসী পাচারকারী চক্র ‘গ্যাং করিম’ এর একটি আস্তানায় অভিযান চালিয়ে ১৯ জনকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ-জেআইএম। আটকদের মধ্যে ১৮ জন বাংলাদেশি এবং একজন পাকিস্তানের নাগরিক। এদের মধ্যে তিন বাংলাদেশিকে চক্রটির সক্রিয় সদস্য ও সমন্বয়কারী হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে।
ইমিগ্রেশন বিভাগের সদর দপ্তরের এনফোর্সমেন্ট বিভাগের কর্মকর্তারা গত ৮ জুলাই সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটে সেলাঙ্গরের চেরাস এলাকায় একটি দোকানঘরে অভিযান চালান। ওই স্থানটি অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় আনা অভিবাসীদের অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র ও ট্রানজিট হাউজ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে অভিযোগ।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আটক ১৬ জন অভিবাসী একই দিনে মালয়েশিয়ার পূর্ব উপকূল দিয়ে অবৈধ পথে দেশটিতে প্রবেশ করেন। পরে তাদের স্থলপথে ক্লাং ভ্যালি এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।
তদন্তে আরও জানা গেছে, চক্রটি চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সক্রিয়। পাচার হওয়া ব্যক্তিদের প্রথমে কম্বোডিয়ায় নেওয়া হতো। এরপর দক্ষিণ থাইল্যান্ড হয়ে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ার কেলান্তান রাজ্যে প্রবেশ করানো হতো।
প্রত্যেক অভিবাসীর কাছ থেকে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার রিঙ্গিত আদায় করত চক্রটি। এভাবে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩২ লাখ রিঙ্গিত অবৈধভাবে আয় করেছে বলে ধারণা করছে ইমিগ্রেশন বিভাগ।
আটক বাংলাদেশিদের একজন মালয়েশিয়ায় চক্রটির কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। অভিযানে চক্রটির ব্যবহৃত একটি ব্যক্তিগত গাড়িও জব্দ করা হয়েছে।
আটক ব্যক্তিদের বয়স ২০ থেকে ৫২ বছরের মধ্যে। তাদের সবাইকে পুত্রজায়া ইমিগ্রেশন ডিপোতে নেওয়া হয়েছে। মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালানবিরোধী আইনসহ সংশ্লিষ্ট আইনে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, অভিবাসন আইন লঙ্ঘন, অবৈধ প্রবেশ এবং মানবপাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।