মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর রাজ্যে অনুমোদনহীন হালাল লোগো ব্যবহার করে ডিটারজেন্ট বাজারজাত করার অভিযোগে একটি কারখানায় অভিযান চালিয়েছে দেশটির অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় মন্ত্রণালয়-কেপিডিএন। এ সময় ২ লাখ ১৫ হাজার ৭০০ রিঙ্গিত মূল্যের পণ্য ও সংশ্লিষ্ট সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে।
কেপিডিএনের সেলাঙ্গর শাখা জানায়, গত ৮ জুলাই মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের (জেআইএম) পুত্রজায়া শাখার গোয়েন্দা ও বিশেষ অভিযান বিভাগের সহায়তায় যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
সকাল প্রায় ১১টা ২৫ মিনিটে পরিচালিত অভিযানে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ডিটারজেন্ট বিক্রি করছিল এবং পণ্যে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে অবৈধ বা অনুমোদনহীন হালাল লোগো ব্যবহার করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা হচ্ছে।
অভিযানে ৩১ হাজার ১৪০ ইউনিট ডিটারজেন্ট, ৪০ হাজার প্লাস্টিক প্যাকেজিং এবং হালাল সনদ–সংক্রান্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নথি জব্দ করা হয়। জব্দ করা সামগ্রীর মোট মূল্য প্রায় ২ লাখ ১৫ হাজার ৭০০ রিঙ্গিত।
এ সময় পাঁচজন বিদেশি শ্রমিক ও একজন মালয়েশীয় কোম্পানি পরিচালকের পরিচয় যাচাই করা হয়। পরে বিদেশি পাঁচ শ্রমিককে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থার জন্য মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
কেপিডিএন জানায়, একটি প্রতিষ্ঠানের পণ্যে হালাল লোগোর অপব্যবহারের বিষয়ে জনসাধারণের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। আইন অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠান দোষী সাব্যস্ত হলে প্রথমবার সর্বোচ্চ ২ লাখ রিঙ্গিত এবং পুনরাবৃত্তির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫ লাখ রিঙ্গিত জরিমানার মুখোমুখি হতে পারে।
অন্যদিকে, কোনো ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ১ লাখ রিঙ্গিত জরিমানা, তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে। একই অপরাধ পুনরায় করলে সর্বোচ্চ আড়াই লাখ রিঙ্গিত জরিমানা, পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
কেপিডিএন সেলাঙ্গর জানিয়েছে, হালাল সনদের লোগোর অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা এবং মালয়েশিয়ার হালাল সনদ ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।