মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে দুই দিনের সরকারি সফরে বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরে পৌঁছেছেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল।
স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ১১ মিনিটে অনুতিন ও তাঁর স্ত্রী থানানন চার্নভিরাকুলকে বহনকারী বিশেষ বিমান কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বুঙ্গা রায়া কমপ্লেক্সে অবতরণ করে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম, তাঁর স্ত্রী ড. ওয়ান আজিজাহ ওয়ান ইসমাইল এবং যোগাযোগমন্ত্রী ফাহমি ফাদজিল তাঁদের স্বাগত জানান।
সফরের শুরুতে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিনকে আনুষ্ঠানিক গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। এরপর তিনি মালয়েশিয়ার মন্ত্রিসভার সদস্য ও ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিত হন।
চলতি বছরের মার্চে পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি প্রধানমন্ত্রী অনুতিনের প্রথম মালয়েশিয়া সফর। সফরের মূল লক্ষ্য দুই দেশের বিদ্যমান ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানো, এমনটাই বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আজই পুত্রজায়ায় দুই প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কের অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি কৃষি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে একটি সমঝোতা স্মারক সই ও বিনিময় করা হবে। পরে আনোয়ার ইব্রাহিম, অনুতিন ও তাঁর সফরসঙ্গীদের সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করবেন।
আগামীকাল শুক্রবার দুই প্রধানমন্ত্রী যৌথভাবে কেদাহর বুকিত কায়ু হিতাম সীমান্ত এলাকা সফর করবেন। সেখানে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন, কাস্টমস, কোয়ারেন্টিন ও সিকিউরিটি কমপ্লেক্স এবং থাইল্যান্ডের সাদাও সিআইকিউ কমপ্লেক্সের মধ্যে সংযোগকারী নতুন সড়কের উদ্বোধন করবেন তাঁরা।
বাণিজ্যের দিক থেকেও থাইল্যান্ড মালয়েশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। ২০২৫ সালে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১১৮ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন রিঙ্গিত। আর ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে বাণিজ্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন রিঙ্গিতে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।